
সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে। এর পাশাপাশি পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ অথবা ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে মঞ্চের ব্যানারে লেখা ছিল ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’।
বিএনপির আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান তাঁর পরিবারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সেনানিবাসেই আমার এবং আমার পরিবারের বেড়ে ওঠা। আমার অনেক ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি আমরা। বড় হয়ে দেখেছি সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা খালেদা জিয়ারও একধরনের নির্ভরতা ছিল, তাঁর সম্মান ছিল।’
তারেক রহমান আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীকে গর্বিত করেছেন।
সেনাবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ‘নির্ভরযোগ্য প্রহরী’ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে সংযুক্ত করা হলে সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে সেনাবাহিনীকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া অবশ্যই উচিত হবে না। রাজনীতির চাদরে যাতে পেশাদারত্ব আচ্ছাদিত না হয়ে যায়, এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর প্রত্যেক কর্মকর্তা এবং সদস্যকে অবশ্যই অত্যন্ত সচেতন থাকা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সেই ঘটনার পর পরাজিত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি বিডিআরের নাম এবং ইউনিফর্ম পরিবর্তন করে ফেলেছিল। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠন এবং সেনা আইনের সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তারেক রহমান। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পে’ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা আমাদের দলীয় ম্যানিফেস্টোতে ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছি। ইনশা আল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে এটি আমরা যত দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব বাস্তবায়ন করব।’
বিএনপির চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে দর্শকসারিতে ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদমর্যাদার সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।