
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে মুখে কালো কাপড় বেঁধে কালো ব্যানার নিয়ে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর ও জেলায় এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে ছয় শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি, তরুণ, যুবক, ছাত্র, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা রয়েছেন।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বহুদিন পর অনেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘদিন পর ফেরত এসেছেন। গুম হওয়া অনেক ব্যক্তির সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়েই তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ এখন ‘বিবেকবর্জিত অরণ্যচারী নরপিশাচদের’ দ্বারা অধিকৃত—এমন দাবি করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গুমের মতো কাজ কেবল পশুদের দ্বারাই সম্ভব। সভ্যতার কোনো মাপকাঠি এখানে বিদ্যমান নেই। ক্ষমতাসীনেরা সর্বযুগের পৈশাচিক দুঃশাসনের অনুসারী। এদের মন ও মননে বাসা বেঁধেছে হিটলার-মুসোলিনি-নমরুদ-ফেরাউনের হিংস্রতা। বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এরা দখল করা রাষ্ট্রকে কাজে লাগাচ্ছে।’
এক মাসে ৩২৭ মামলা
গত ২৮ ও ২৯ জুলাই বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে এখন পর্যন্ত দলের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ৩২৭টি মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, এই সময়ে ১ হাজার ৬২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৩০ জনকে। একই সময়ে পুলিশ ও ক্ষমতাসীনদের হামলায় বিএনপির ১ হাজার ২৫০ নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানান রিজভী।
রিজভী বলেন, গতকালও রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মুশফিক আহমেদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল আহমেদ চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর টিপু আহমেদ এবং ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদ হোসেনকে সাদাপোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অবিলম্বে গ্রেপ্তার নেতা–কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।