
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এরই মধ্যে এক বছর পার করেছে। এই সময়ের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে দলটি। এই অর্জনে পুরোপুরি সন্তষ্ট না হয়ে আরও সামনে যাওয়ার কথা বলেছেন এই দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ শনিবার বিকেলে ঢাকার ধানমন্ডিতে আবাহনী মাঠে বছরপূর্তির অনুষ্ঠান আয়োজন করে এনসিপি। এর আলোচনা পর্ব ও ইফতারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি চিন্তক ফরহাদ মজহারও যোগ দেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা শুভেচ্ছা বক্তব্যে এনসিপির এক বছরের অর্জনের প্রশংসা করে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
যে জুলাই অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়, সেই আন্দোলনে শুরু হয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলেনর নেতৃত্বে। এই প্ল্যাটফর্মটির নেতারাই একটি রাজনৈতিক দল গড়তে উদ্যোগী হন। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে হয় এই দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। এরপর এই মাসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য গড়ে অংশ নেয় এনসিপি। তাতে ছয়টি আসনে জয়ী হয় তারা।
আবাহনী মাঠে এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয় কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। শুরুতেই বক্তব্য দেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শহীদ আহনাফ আবির আশরাফুল্লাহর বোন সাইয়্যেদা আক্তার। এরপর বক্তব্য দেন এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। সঞ্চালনা করেন এই কমিটির সদস্যসচিব সালেহউদ্দিন সিফাত।
জুলাই অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে এনসিপির এক বছরের পথচলার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয় অনুষ্ঠানে। আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্যের সমাপনী বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপি প্রতিষ্ঠিত হলেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিজয় লাভ করেছি। এতেই সন্তুষ্ট নই। সামনের দিনগুলোতে আমাদের অর্জনকে আমরা বৃদ্ধি করব।’
সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এবং তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এনসিপি সংস্কার ও বিচারের দাবিতে সরব থাকবে বলেও জানান তিনি।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘এক বছরে এনসিপি অনেক দূর আসতে সক্ষম হয়েছে। রাজনীতিতে নির্বাচনী সমঝোতা ও জোটের মধ্য দিয়ে তারা বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ছয়টি আসন পেয়েছে। এই ছয়টি আসন ভবিষ্যতে বৃদ্ধি হতে হতে একদিন তারা হয়তো-বা রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করবে। তবে সময় লাগবে, সবকিছু রাতারাতি হয় না।’
এনসিপির আত্মপ্রকাশে রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদী হওয়া কথা বলেন এই বিএনপি নেতা। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রশংসাও তিনি করেন। দলটির নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাঠে শত ফুল ফুটবে। অনেক ফুলকে আমরা দেখেছি যারা শুধু রাজনৈতিক সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এনসিপি যেন সত্যিকার অর্থে এ দেশের মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করে, এ দেশের জনমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষাকে যেন বাস্তবায়ন করে। সেই রকম রাজনীতি তারা করবে বলে আমরা আশা করি।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এনসিপির যে ফলাফল, লাখ লাখ ভোটারের যে সমর্থন, তা প্রমাণ করে তারুণ্যের শক্তি ও এনসিপির প্রতি তাদের আস্থা আছে।
তিনি সরকারি দলের উদ্দেশে বলেন, সরকারি দলের উচিত হবে না গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়ন না করা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে যেন পেছনে ফেলে না দেওয়া হয়। তাহলে জনগণ ভুল বুঝতে পারে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমও এনসিপিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন।