
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে। দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে শীর্ষ দুই পদ—আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন বহাল থাকছেন।
এনসিপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার কিংবা আগামীকাল বুধবার এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হবে। কমিটির এই পুনর্গঠনের পেছনে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দক্ষতা (পারফরম্যান্স) বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুনর্গঠিত কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পাচ্ছেন; আর সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এনসিপিতে ১১টি শীর্ষ পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। পুনর্গঠনের পর তা ‘সুপার সিক্সে’ রূপ নেবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। ওই দিন থেকেই দলের মুখ্য সমন্বয়ক পদে পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে সারজিস দায়িত্ব পালন করে আসছেন; আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
নিজেদের কার্যক্রমের মাধ্যমে এনসিপির অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন, অনেকে আবার সেভাবে সক্রিয় ছিলেন না৷ এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে—মনিরা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি
এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, এনসিপির এবারের পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দেওয়া। দল গঠনের পর, গত জাতীয় নির্বাচনে এবং সাম্প্রতিক নানা রাজনৈতিক ইস্যুতে এই নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটার প্রতিফলন দলীয় পদেও দেখা যাবে।
দলের কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে এনসিপির তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সংখ্যা ১৬। দলের আহ্বায়ক-সদস্যসচিব পদাধিকারবলে এই ফোরামের সদস্য৷ তাঁদের দুজনের সঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটিতে পাটওয়ারী, হাসনাত, সারজিস ও আসিফ শীর্ষ পদে থাকছেন।
পর্ষদের অন্য ১০ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম৷
উল্লেখ্য, বর্তমান সংসদে এনসিপির আটজন সদস্য প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁরা হলেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান, হান্নান মাসউদ, মাহমুদা আলম ও নুসরাত তাবাসসুম। এর মধ্যে মাহমুদা ও নুসরাত সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য।
এনসিপি সূত্র জানায়, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিবদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হবে। তারা মূলত সহযোগী সংগঠন ও দলের বিভিন্ন সেল দেখভাল করবেন।
এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক (২ জন); মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন); জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক—এই ১১টি পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। পুনর্গঠিত কমিটিতে ‘সুপার ইলেভেনের’ পরিবর্তে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকবেন ছয়জন। অর্থাৎ ‘সুপার ইলেভেন’ হচ্ছে ‘সুপার সিক্স’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত জানুয়ারিতে এনসিপির দলীয় কাঠামো পুনর্গঠনের আলোচনা প্রথম সামনে আসে। সে সময় বলা হয়েছিল, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে গতিশীলতা বাড়াতে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন দরকার। এ ছাড়া ২০২৭ সালের শুরুতে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনাও তখন জানা গিয়েছিল; কিন্তু সে সময় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়নি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, 'এনসিপি আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কাজ শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অনেককে অ্যাকোমোডেট করার জন্য পরে কিছু পদ তৈরি করা হয়েছিল। এত দিন ধরে চলে আসা এই কাঠামো এখন পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে দলের কাছে মনে হচ্ছে।’
এই পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নেতাদের পারফরম্যান্সকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মনিরা শারমিন বলেন, নিজেদের কার্যক্রমের মাধ্যমে এনসিপির অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন, অনেকে আবার সেভাবে সক্রিয় ছিলেন না৷ এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে৷