রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ১৪ সেপ্টেম্বর
রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ১৪ সেপ্টেম্বর

প্রথাগত দলীয় রাজনীতিতে যাঁরা অন্ধ, তাঁরাই এমনটা করতে পারেন: জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া নিয়ে গোলাম পরওয়ার

ডাকসুর সংগ্রহশালায় থাকা পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শুধু প্রথাগত দলীয় রাজনীতিতে যাঁরা অন্ধ, তাঁরা এ ধরনের আচরণ করতে পারেন।

আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’

এক অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা অবগত হয়েছি। আমরা বলব যে যাঁরা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস জানেন না, বাংলাদেশের জন্মের সৃষ্টির পেছনের কথা যাঁরা জানেন না, এই ভূখণ্ডের আজাদ এবং স্বাধীন করার পেছনে কারা কারা লড়াই করেছেন, কী কী অবদান ছিল—এই রাজনীতির ইতিহাস থেকে যাঁরা অজ্ঞ আছেন, শুধু প্রথাগত দলীয় রাজনীতিতে যাঁরা অন্ধ, তাঁরা এ ধরনের আচরণ করতে পারেন।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘উনি যে আন্দোলন করেছিলেন, যে কথা বলেছিলেন, এই ভূখণ্ডের সমস্ত দেশপ্রেমিক নাগরিক সে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এগুলোর ইতিহাস জানতে হবে। রাজনীতিতে ইমম্যাচুরিটি থাকলে বহু কাজ, বহু দায়িত্ব এমন হয়ে যায়, যেগুলো মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’

আজ বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

লংমার্চ শান্তিপূর্ণ হওয়ায় সরকারের কিছু ব্যক্তি ঈর্ষাপরায়ণ

বিরোধী দলের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ হওয়ায় সরকারের কিছু ব্যক্তি ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, তারা (সরকার) মনে করেছিল, লংমার্চের মাধ্যমে সন্ত্রাস, নাশকতা, আগুন, ভাঙচুর হবে। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে উসকানি দেওয়ার জন্য তারা কিছু বক্তব্য দেয়। বিরোধী দল কোনো উসকানিতে পা দেবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘বিরোধী দলের দাবিগুলো মেনে নিলে লংমার্চ করার প্রয়োজন পড়ত না। লংমার্চ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সমাজে একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক কর্মসূচি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মা (খালেদা জিয়া) যখন বিরোধী দলে ছিলেন, তখন জোটগতভাবে জামায়াতও বিএনপির সঙ্গে লংমার্চ করেছিল এবং তিনি সে লংমার্চে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। লংমার্চ কেন করতে হয়, কখন করতে হয়—এই সমীকরণ সরকারে থাকলে বোঝা যায় না, বিরোধী দলে থাকলেই বোঝা যায়।’

লংমার্চ করে সমাধান করা গেলে সরকার সেটিই করত প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁর জায়গা থেকে এমন কথা মানানসই নয়। বিরোধী দল এ বক্তব্য ভালোভাবে নেয়নি এবং জনগণও এটিকে সমীচীন মনে করেনি।

বিরোধী দলের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শান্তিপূর্ণ হবে বলে জানান জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, সরকার, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে লংমার্চে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, আগের মতো লংমার্চ শান্তিপূর্ণ করতে সহযোগিতা পাবেন।

কনফারেন্সে প্রধান আলোচক ছিলেন মুফতি মাহমুদুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মারুফ শাহরিয়ার। আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনডিএফ সেক্রেটারি মাহমুদ হোসেন প্রমুখ।