‘জনগণের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে
‘জনগণের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে

পাইকারিভাবে ‘ইনডেমনিটি’ দিলে হবে না, সুনির্দিষ্ট তদন্ত করতে হবে: আনু মুহাম্মদ

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি দেওয়ার আগে প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ বলেছেন, পাইকারিভাবে ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দিলে তো হবে না। ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত করা প্রয়োজন। যাতে বোঝা যায়, এটি গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ঘটেছে, নাকি কোনো ব্যক্তির অপরাধমূলক তৎপরতার ফল।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জনগণের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে ২৫ দফা সুপারিশ সংবলিত একটি ইশতেহার তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আনু মুহাম্মদ।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ইশতেহারের প্রথম দফায় বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচিত সরকারকে তিন বছরের মধ্যে জুলাই গণহত্যার জন্য দায়ী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অপরাধী সব নেতা–কর্মী, আমলা, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাসদস্যদের পূর্ণাঙ্গ বিচার সমাপ্ত করতে হবে। আওয়ামী লীগের ছয় শতাধিক নেতা–কর্মীর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্বচ্ছ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে পালাতে সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জুলাইয়ে পুলিশ হত্যার দায়মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়মুক্তি হওয়া উচিত।

ইশতেহারে যা আছে

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ২৫ দফা ইশতেহারে আছে—জুলাই গণ–অভ্যুত্থানসহ সব গণ–অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধকে জনগণের দখলে ফেরত আনা জননিরাপত্তা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান, নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রচারবৈষম্য দূরীকরণ ও প্রার্থীকে পছন্দ না করার গণতান্ত্রিক অধিকার, বাজেটের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্যতা; অর্থনীতির নিরাপত্তা; সমন্বিত প্যাকেজে কৃষক, পোলট্রি খামারি, মৎস্যচাষি ও জেলে এবং ভোক্তাদের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির মেরুদণ্ড জোরদারকরণ; প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও কর্মজীবীদের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার; অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা; ফ্রিল্যান্সারদের ন্যূনতম নিরাপত্তা; প্রবাসী শ্রমিকের ন্যূনতম শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা; দেশীয় শিল্পভিত্তি ও ব্যবসায়ী এবং হকার, টংদোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা; শিক্ষার মানোন্নয়ন; শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার;চিকিৎসার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বাধীনতা; প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের নিরাপত্তা; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা; নিরাপদ সড়ক; বাক্‌স্বাধীনতার নিরাপত্তা; জনগণের সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক; ভূমিকম্প, অগ্নিদুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং আবাসনের নিরাপত্তা বিনোদনের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা; সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার; আদিবাসীদের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার; নারীদের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার; বৈচিত্র্যের ঐক্যের শান্তি-স্বস্তি নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার এবং পোশাকের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা।

সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার পাঠ করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আকরাম খান, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ ও সুস্মিতা মিতা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা।