সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য এবং রাজনীতিবিষয়ক দায়িত্বশীলা হাবিবা আক্তার চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ১ ফেব্রুয়ারি
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য এবং রাজনীতিবিষয়ক দায়িত্বশীলা হাবিবা আক্তার চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ১ ফেব্রুয়ারি

প্রচারে নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হচ্ছে, অভিযোগ জামায়াতের

দেশের বিভিন্ন জায়গায় দলের নারী কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারে গেলে নির্যাতন, হুমকির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ রোববার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে দলটি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীলা চারজনসহ ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। এই প্রথমবারের মতো জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রীরা অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গেলেন।

বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সময় নারী কর্মীরা যখন ভোটের জন্য বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় যাচ্ছেন বা নির্বাচনের কাজ করছেন, তখন একদল লোক তাঁদের ওপর বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার–নির্যাতন করছে। সাইবার বুলিং হচ্ছে, শারীরিক নির্যাতন করছে, তাঁদের হিজাব এবং নেকাব খুলে ফেলছে। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে তাঁরা ইসির পদক্ষেপ চেয়েছেন। তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো তাঁরা স্থানীয়ভাবেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

কারা নারীদের প্রচারে হেনস্তা করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, যাঁরা এই কাজটা করেছেন, তাঁদের দলীয় পরিচয় বোঝার উপায় নেই, তারা দুষ্কৃতকারী। তবে তাদের আইনের মুখোমুখি করতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে বের করবে তাদের দলীয় পরিচয় আছে কি না বা তাদের পরিচয় কী। তিনি আরও বলেন, যে একদল লোক তাৎক্ষণিকভাবে রাজু ভাস্কর্যে কিছু কর্মসূচি দিয়েছেন, এটার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটা ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য এবং রাজনীতিবিষয়ক দায়িত্বশীলা হাবিবা আক্তার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা ইসিতে যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে ১৫টি জায়গার ছবি, ভিডিওসহ দিয়েছেন। এর বাইরে আরও ঘটনা আছে। তিনি জানান, ইসি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর আগে দুপুরে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। তারা অভিযোগ করেছিল, বিভিন্ন এলাকায় শান্তি কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে তারা শুনছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এই সব আজগুবি অভিযোগ কোনো সুস্থ মাথা থেকে আসতে পারে না।

দলের নারী নেতৃত্ব প্রশ্নে যা বললেন

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে নারী আসা সম্ভব নয়। জামায়াতের নারী বিভাগের নেত্রীরাও তাই মনে করেন কি না, জানতে চান একজন সাংবাদিক।

জবাবে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, ‘আপনারা জানেন, জামায়াতে ইসলামী হলো ইসলামি সংগঠন, তাই না? আর ইসলামি সংগঠন ইসলাম মেনে চলবে, এটাই স্বাভাবিক। যেখানে আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন ‘আর-রিজালু ক্বাওয়ামুনা আলান নিসা’—পুরুষ হচ্ছে নারীদের পরিচালক। তো এখানে আল্লাহর এই নির্দেশটা, এটা কোরআনের নির্দেশ, এটা ফরজ। সেই হিসেবে কোনো ইসলামি সংগঠনে নারীরা নেতৃত্বে আসতে পারে না।’

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আরও বলেন, তাঁরা এটা মেনে নিয়েই ইমান এনেছেন। তাঁরা এটা মেনে নিয়েই চলছেন। শীর্ষ পদে নারী আসাটা গুরুত্বপূর্ণ না। গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কি না।

নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, ‘বাংলাদেশের গত ৫৪ বছরে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ছিলেন। কিন্তু নারীদের সমস্যার কি সমাধান হয়েছে? নারীদের প্রতি সহিংসতা কি কমেছে? নারীদের অধিকার কি আদায় হয়েছে? তাহলে শুধু নারী শীর্ষ পদে থাকলেই যে একটা কিছু হয়ে যাবে, কথাটা ঠিক না। বরং নারী হোক আর পুরুষ হোক, যিনি মানবিক হবেন এবং মানবিক মর্যাদা দেবেন নারীদের, পুরুষদের সবাইকে আমরা এই ধরনের নেতৃত্ব চাই। এই জন্য শীর্ষ পদে আমরা আসাটা জরুরি মনে করি না।’