
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘অনেকে আমাদেরকে খোঁচা দেয়। আমরা নাকি গুপ্ত নাকি সুপ্ত। লজ্জা! নিজেরা যাঁরা গুপ্ত–সুপ্ত হয়ে থেকেছেন, সেই লোক যদি আমাকে গুপ্ত বলেন, আপনাকে গুপ্ত বলে; আপনার কেমন লাগবে বলেন!’
আজ শনিবার রাতে রাজধানীর গ্রিন রোডের সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে এক নির্বাচনী সভায় জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন। ঢাকা–১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকারের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, ‘বছরের পর বছর দেশবাসী কিছু মানুষের ছায়াও দেখেনি। সেই মানুষ যদি আমাকে বলে, আমি গুপ্ত না সুপ্ত…হ্যাঁ, আপনি বলতেই পারেন, আমি গুপ্ত ছিলাম কারাগারে দফায় দফায়। আপনি যদি ওটাকে গুপ্ত বলেন, তাহলে আমি অবশ্যই গুপ্ত।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ দেশের মানুষকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে আমি পালিয়ে যাইনি। আমি ইচ্ছা করলে পালিয়ে যেতে পারতাম। আমি শুধু না, আমার সহকর্মীরা পালিয়ে যাননি। নিশ্চিত মৃত্যু জেনে আমাদের সহকর্মীরা সাহস করে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন।’
ভোট চাইতে গেলে যাঁরা মায়েদের বুকে লাথি দিয়েছে, তাঁদের কাপড় খুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, তাঁরাই এখন ‘ফ্যামিলি কার্ড’–এর নামে মায়েদের প্রতি দরদ দেখাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।
এ সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘যাঁরা এসব করছেন, তাঁদের সতর্ক হতে হবে। মায়েদের পাশাপাশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষায় জামায়াত চুপ করে থাকবে না।’
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চামড়াশিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বে নজির সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তরিত হলেও চামড়া ব্যবসা–সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান করা হয়নি। সাভারে এই ট্যানারিশিল্প এখনো আধুনিক শিল্পে রূপান্তরিত হয়নি। জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে এই শিল্পকে রক্ষায় ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ারও অনুরোধ জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, পচা রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে এবং পরিবর্তনের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তারপর সরকার গঠনের জন্য আরেকটি ভোট দিতে হবে। সেই ভোট হবে ন্যায়-ইনসাফের এক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভোট।
জনসভায় জামায়াত আমির ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকারের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার পাশাপাশি দলের নেতা–কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘একটা কথা আমি বলে যাই, সাবধান থাকবেন। আকাশে কিছু কালো চিল ঘোরাফেরা করছে। ওরা যদি ছোঁ মেরে আপনাদের ভোটকে এলোমেলো করে দিতে চায়, সব কটি ডানা খুলে ফেলবেন।’
জনসভায় ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকার সংসদীয় এলাকার বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির সংকট এবং জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার চিত্র তুলে ধরে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যমান সমস্যাগুলো অগ্রধিকার ভিত্তিতে সমাধান করবেন।