
এই আসনে প্রার্থী ১১ জন। এখানে ধানের শীষ ও শাপলা কলি—এ দুই প্রতীকের প্রার্থীর প্রচার–প্রচারণা বেশি।
একজন সারোয়ার, আরেকজন সরওয়ার। দুজনের নামের বানানে পার্থক্য থাকলেও উচ্চারণ করার সময় ভুল করেন অনেকে। দুজন দুই দলের প্রার্থী হলেও এক জায়গায় তাঁদের বেশ মিল আছে। দুজনই প্রচণ্ড আশাবাদী মানুষ। ঢাকা–৮ আসনের এ দুই প্রার্থীর দাবি, ভোট সুষ্ঠু হলে বিজয়ী হবেন।
ঢাকা-৮ আসনে কলম প্রতীকে জনতার দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন মো. গোলাম সারোয়ার। তাঁর সঙ্গে গত শনিবার কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার দলের কোনো নেতা-কর্মী নেই, কোনো রকম ফান্ড (তহবিল) নেই। তাই একাই প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি।’
নির্বাচনী এলাকার কোথাও আপনার কোনো ব্যানার–ফেস্টুন নেই, ভোটাররা আপনাকে চিনবেন কীভাবে, এমন প্রশ্নে গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘নেতা-কর্মী বানানোর মতো টাকা তো আমাদের নেই। আর আমাদের দল ও আমরা ওইভাবে মানে ক্ষমতা দেখানোর মনমানসিকতা নিয়ে চলি না। তবে আমি আশাবাদী, মানে আমার ফেস পরিচিত হলে ইনশা আল্লাহ রেজাল্ট পজিটিভ হওয়া সম্ভব।’
এ আসনের আরেক প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার। তাঁর দলের নির্বাচনী প্রতীক মোমবাতি। তিনি ঢাকা–৮–এর পাশাপাশি হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকেও নির্বাচন করছেন। গতকাল সোমবার তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য হবিগঞ্জে অবস্থান করছেন। ঢাকা-৮ আসনে তাঁর দলের নেতা–কর্মীরা প্রচার চালাচ্ছেন।
এস এম সরওয়ার বলেন, আল্লাহর রহমতে যদি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, প্রশাসন যদি সজাগ থাকে, তাহলে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। বিপুল ভোটে তিনি বিজয় লাভ করবেন বলে আশাবাদী।
এলাকায় মোমবাতির কোনো প্রচার-প্রচারণা, ব্যানার, বিলবোর্ড চোখে পড়ল না, এমন প্রশ্নে এস এম সরওয়ার বলেন, ‘কেউ না কেউ ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে। আর আমাদের দল তো কোনো সময় মারামারি করে না। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই তো মারামারি, ঝগড়া নিয়ে ব্যস্ত। কেউ যদি সন্ত্রাসী হয়, তাদেরকে ভালোবাসা দিয়ে ভালো রাস্তায় নিয়ে আসার চেষ্টা করি আমরা।’
মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা নিয়ে ঢাকা-৮ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে প্রার্থী ১১ জন। তাঁদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে শাপলা প্রতীকে লড়ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এ আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের মেঘনা আলম। তিনি ‘ট্রাক’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাথায় মুকুট পরে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করেছেন এই প্রার্থী।
গত রোববার কথা হয় মেঘনা আলমের সঙ্গে। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রচারে তিনি ছাড়া কেউ নিয়ম মানছেন না। সবাই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যনার–ফেস্টুন লাগাচ্ছেন। ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
মেঘনা আলম বলেন, ভোটের ফলাফল নিয়ে তেমন ভাবছেন না তিনি। ব্যবস্থা বদলের লড়াইটাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মোটর গাড়ি (কার) প্রতীকে এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ জাসদের এ এফ এম ইসমাইল চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষ নতুন কাউকে চাচ্ছে। সে জায়গা থেকে জয়ের একটা আশা দেখছি।’
গত শনি ও রোববার ঢাকা-৮ আসনের শাহজাহানপুর, পল্টন, মতিঝিল ও শাহবাগ এলাকা ঘুরেছেন এই প্রতিবেদক। এসব এলাকায় ধানের শীষ, শাপলা কলির ব্যানার–ফেস্টুন বেশি ছিল। কোথাও কোথাও সিপিবির প্রার্থী ত্রিদ্বীপ কুমার সাহার (কাস্তে প্রতীক) ব্যানার দেখা গেছে। দু–একটি জায়গায় ছিল বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কেফায়েত উল্লার হাতপাখা প্রতীকের ব্যানার–ফেস্টুনও।
নির্বাচনী প্রচারে মানুষের বেশ সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেন সিপিবির প্রার্থী ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা।
এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির মো. জুবের আলম খান (লাঙ্গল প্রতীক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মো. রাসেল কবির (ছড়ি প্রতীক) ও বাসদের (মার্ক্সবাদী) এ এইচ এম রফিকুজ্জামান আকন্দ।
কাঁচি প্রতীকে নির্বাচন করা রফিকুজ্জামান আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের জন্য কোটি কোটি টাকা দরকার। অনেক প্রার্থী কালোটাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহার করছে। আমাদের সেসব নেই।’
এ আসনে নির্বাচনী প্রচারে মিডিয়া শুধু দুজনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রার্থী। যাঁরা অল্প টাকা, অল্প লোকজন নিয়ে মাঠে আছেন, তাঁদের প্রচার সেভাবে হয় না বলে জানান জাতীয় পার্টির প্রার্থী জুবের আলম খান।