উপজেলা বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সৈয়দ এমরান সালেহ। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া বাজারে, ২২ সেপ্টেম্বর
উপজেলা বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সৈয়দ এমরান সালেহ। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া বাজারে, ২২ সেপ্টেম্বর

‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ বিরোধী দলের রাজনীতির হাতিয়ার: এমরান সালেহ

‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ বিরোধী দলের রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অনলাইন-অফলাইনে গুজব ও নাশকতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া বাজারে উপজেলা বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল হয়।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানো নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গে এমরান সালেহ বলেন, সরকার এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কাল্পনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগাম আন্দোলনের ঘোষণা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। তিনি বলেন, রাজনীতি হতে হবে সত্য ও তথ্যনির্ভর।

বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনার পক্ষে মত দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রতিটি বিষয়কে আন্দোলন ও সরকার পতনের কর্মসূচিতে পরিণত করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্র। বিরোধী দলের বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা সরকার ও জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচিত সরকারের সাত মাসের মধ্যেই পদত্যাগের দাবি তোলার সমালোচনা করেন এমরান সালেহ। তিনি বলেন, সরকারকে কাজ করার ন্যূনতম সময় ও সুযোগ না দিয়ে দ্রুত সরকার পতনের দাবি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। বিরোধিতা মানেই সরকারকে অস্থিতিশীল করা নয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

জামায়াত-এনসিপির নেতারা আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে এক দফার হুমকি ও লাগামহীন বক্তব্য দিয়ে পতিত আওয়ামী লীগকে লাভবান করছেন বলেও মন্তব্য করেন এমরান সালেহ।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সরকার খুশি মনে নয়, দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেলের দামের পার্থক্যের কারণে সম্ভাব্য পাচার ঠেকাতে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে কেউ পরিবহনভাড়াসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুনাফা করতে চাইলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে সমাবেশে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।