জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান দলের পক্ষে বিকল্প জাতীয় বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান দলের পক্ষে বিকল্প জাতীয় বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে

৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব জামায়াতের

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি বিকল্প জাতীয় বাজেট পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির তৈরি করা এই বাজেটে সর্বোচ্চ জনপ্রশাসন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২৭ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিকল্প বাজেট পেশ করে জামায়াত।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) বাজেট উপস্থাপন করেন।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই বাজেটের বরাদ্দ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোট বাজেটের ২৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে, টাকার অঙ্কে যা ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট প্রস্তাবিত বাজেটের ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল প্রস্তাবিত এই বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা (১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ) বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের এই বিকল্প বাজেটে দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা (৬ দশমিক ১৫ শতাংশ) এবং গরিব ও দুস্থ মানুষের সহায়তায় সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা (৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা (৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ) এবং তৃণমূলের উন্নয়নে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা (৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ) বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যান্য খাতের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা (৫ দশমিক ১৮ শতাংশ), জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা (৪ দশমিক ১০ শতাংশ) এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা (২ দশমিক ৯৭ শতাংশ) বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্ম খাতে ৬ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা (০.৭৯ শতাংশ), শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে ৫ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা (০.৬২ শতাংশ) এবং গৃহায়ণ খাতে ৫ হাজার ৭৮ কোটি টাকা (০.৬০ শতাংশ) বরাদ্দ ধরা হয়েছে।