
গণভোট নিয়ে কেউ কেউ দ্বিচারিতা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৩ আসনে ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, ‘দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, বাংলাদেশ এমন এক রাজনীতির পথে চলছে, অনেকেই প্রকাশ্যে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে কথা বললেও গোপনে গোপনে “না” ভোটের জন্য মানুষকে সংগঠিত করছে।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের টাউন হলের পাশে শহীদ পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভায় মাওলানা মামুনুল হক এ কথা বলেন। এই জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নামলেন তিনি। জনসভায় জামায়াতের ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) নির্বাচনী ঐক্যের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।
এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ বাদশা মিয়ার বাবা ফিরোজ মিয়া, শাপলা চত্বরে শহীদ রুহুল আমিন রুবেলের বাবা বাচ্চু মিয়া জনসভায় বক্তব্য দেন। তাঁরা মামুনুল হকের পক্ষে ঢাকা-১৩ আসনের মানুষের কাছে ভোট চান। এ সময় জনসভা মঞ্চের দুই পাশে প্রতীক হিসেবে রিকশা প্রদর্শন করা হয়।
জনসভায় মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার ফসল ঘরে তোলার লক্ষ্যেই চব্বিশের জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ করছি, যেভাবে একসময় পরাজিত শক্তি মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালিয়েছিল, সেই একই শক্তি আবার জুলাই বিপ্লবকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। বাংলাদেশকে পাহারা দেওয়ার জন্যই ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪–এর আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ইসলামী দলের ঐক্য গড়ে উঠেছে।’
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের মাটি ও মানুষের সঙ্গে ৪০ বছরের অভিযাত্রী ও সহযাত্রী হিসেবে আমি এই এলাকা ভোটের ময়দানে নেমেছি। এই এলাকার মানুষকে সন্ত্রাস, জুলুম, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারিদের হাত থেকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছি। ইনশা–আল্লাহ, এই এলাকা আমরা চাঁদাবাজ ও আধিপত্যবাদমুক্ত করেই ছাড়ব।’
১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘এই শহীদ পার্ক মাঠে আমরা একাত্তরের বীর শহীদদের সম্মান জানিয়েছি, তাঁদের আশীর্বাদ নিয়ে প্রচার শুরু করছি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের অভিভাবকদের দোয়া নিয়েছি। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদেরও এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এসব শক্তিকে একত্র করে আমরা আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই ঘোষণা দেওয়ার জন্য এখানে একত্রিত হয়েছি।’