কক্সবাজার সফর করা এনসিপির ৫ নেতার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার

(বাঁ থেকে) এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
(বাঁ থেকে) এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে কক্সবাজার সফরে দলের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতার দলীয় শৃঙ্খলার ব্যত্যয় খুঁজে পায়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ জন্য তাঁদেরকে দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে দলটি।

আজ শনিবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ আগস্ট এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহকে আলাদা পাঁচটি কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই নেতারা দপ্তর মারফত আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বরাবর কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিয়েছেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নোটিশের জবাব বিশ্লেষণে ওই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলায় ব্যত্যয় না ঘটায় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে নোটিশগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।

এর আগে ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে কক্সবাজার সফরে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহ (তাসনিম জারার স্বামী)।

এনসিপির পাঁচ নেতার হঠাৎ কক্সবাজার গমনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা তৈরি করে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা তৈরি হয়। পরে ৬ আগস্ট এনসিপির এই পাঁচ নেতাকে দলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এই সফরের বিষয়ে কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা দলের রাজনৈতিক পর্ষদকে আগে জানানো হয়নি উল্লেখ করে নোটিশে এই সফরের কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলের দুই শীর্ষ নেতার কাছে সশরীর উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল।

আলাদা আলাদা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নোটিশগুলোর ভাষা ছিল একই। এতে বলা হয়, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আপনি এবং দলের আরও চারজন কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার গিয়েছেন। এই সফরসংক্রান্ত কোনো তথ্য কিংবা ব্যাখ্যা রাজনৈতিক পর্ষদের কাছে আগে অবগত করা হয়নি। এমন অবস্থায় আপনার এই সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের কাছে সশরীর উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।’