
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও এবং এর আগে মিরপুর–১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি সেন্টারে হামলায় জড়িত সব অপরাধীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। পাশাপাশি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ মন্ত্রীদের অপসারণ, চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’—গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে জালালুদ্দীন বলেন, ‘আজ দেশের মানুষ জানতে চায়, সেই পরিকল্পনা কী? ব্যর্থ মন্ত্রীদের নিয়ে দেশ চালানো, নাকি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের জন্য রাষ্ট্রকে উন্মুক্ত করে দেওয়াই সেই পরিকল্পনা?’
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর বুকেই একের পর এক সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব চলছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের লাগামহীন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে। রাজধানীতে যদি রাতের পর রাত এভাবে স্টুডিও ভাঙা যায়, হাসপাতাল তছনছ করা যায় এবং মানুষকে জিম্মি করা যায়, তাহলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব কোথায়, সেই প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেছেন, ‘এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, এটি সরকারের চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।’
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। সরকার যদি এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সভ্য দেশে এমন ব্যর্থতার পর কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি ওই পদে বহাল থাকতে পারেন না। যাঁরা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তাঁদের পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় নিয়ে সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর মানুষ রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের আশা করেছিল উল্লেখ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বলেছে, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, শুধু হাসিনা নেই—এই পরিবর্তন ছাড়া আর কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বিশেষ করে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং আগের চেয়েও ভয়াবহ রূপে ফিরে এসেছে। গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করা এবং জাতীয় ঐকমত্যকে ভেঙে দেওয়ার ফলেই অপরাধীরা নতুন সাহস পেয়েছে। সরকার যদি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এর রাজনৈতিক দায়ও সরকারকেই বহন করতে হবে।