
১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) নরসিংদী–২ ও চট্টগ্রাম–৮ আসনে ছাড় দিলেও এ দুই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এখন আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগও নেই। তবে ওই দুটি আসনের ব্যালট পেপারে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক না রাখতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছে জামায়াত।
২৩ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বরাবর দেওয়া এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। নরসিংদী-২ আসনে মো. গোলাম সারোয়ার (সারোয়ার তুষার) ও চট্টগ্রাম–৮ আসনে মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। তাঁরা ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে লড়ছেন।
২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে নরসিংদী-২ আসনে (পলাশ উপজেলা ও সদরের আংশিক) প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে যাওয়ার আগেই আসনটির জামায়াতের প্রার্থী আমজাদ হোসাইনকে তাঁর বাসায় ‘আটকে’ দেন দলীয় কর্মী–সমর্থকেরা। পরে তিনি আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। আর চট্টগ্রাম–৮ আসনে (বোয়ালখালী উপজেলা ও চান্দগাঁও–পাঁচলাইশ) জামায়াত প্রার্থী মো. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চাননি। তখন এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির প্রার্থী ঘটনাটিকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
ওই দুটি আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ২৩ জানুয়ারি সিইসিকে যে চিঠি দিয়েছেন, সেটি আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন নরসিংদী-২ আসনের এনসিপি প্রার্থী সারোয়ার তুষার। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘নরসিংদী–২ আসনটি এনসিপির গোলাম সারোয়ার এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনটি একই দলের জোবাইরুল হাসানকে ছেড়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। কিন্তু ওই দুই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী দুজন যথাসময়ে তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। তাই এই দুটি আসনের ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার জন্য অনুরোধ করছি। বিষয়টি বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
ফেসবুক পোস্টে এ চিঠি যুক্ত করে সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘আশা করা যাচ্ছে, এতে (সিইসিকে জামায়াতের চিঠি) অনেক জটিলতারই অবসান ঘটবে। জোট প্রার্থীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার নিদর্শন রাখায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতি শুকরিয়া জানাই।’