
সরকার জুলাই সনদ মানার কথা বললেও গণভোট মানতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংবিধানের চেতনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও পুরো কাঠামো পরিবর্তন করে ফ্যাসিবাদী যুগের কর্তৃত্ববাদী শাসন, দলীয়করণ ও লুটপাটের ভিত্তি আমূল বদলাতে হবে। এ জন্য দর্শন, কাঠামো ও বৈশিষ্ট্যগত সংস্কার প্রয়োজন। আর এ মৌলিক সংস্কার হয়ে গেলে ভবিষ্যতে কেউ কর্তৃত্ববাদী বা একদলীয় শাসন কায়েম করতে পারবে না। এ কারণে সরকার গণভোট মানতে চায় না।
আজ বুধবার বিকেলে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ: উত্তরণে আইনজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ অভিযোগ করেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আইনজীবী ঐক্য পরিষদ এ সেমিনারের আয়োজন করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত কমিশনের মাধ্যমে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। অর্থাৎ সবাই তখন সেটি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু এখন সরকার সেখান থেকে কেন ইউ-টার্ন করল, এটাই আজকের মূল প্রশ্ন।
বিএনপি অতীতের কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার মতো আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দিকে যেতে চায় দাবি করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাদের (বিএনপি) কাছে জুলাই সনদ সবচেয়ে বড় বাধা। সে বাধা এড়ানোর জন্যই তারা সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদে একটি বিশেষ কমিটি করেছে।
সরকার জুলাই সনদকে গণভোট থেকে আলাদা করে দেখাতে চাইছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বারবার বলছে, তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে মানবে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাই এ কথা বলেছেন। কিন্তু তাঁরা কখনো বলেননি যে তাঁরা গণভোটের রায় মেনে নেবেন।
সেমিনারে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির সংবিধানের ট্রানজিশনাল পিরিয়ড-সংক্রান্ত বিধান (সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদ ও চতুর্থ তফসিল) প্রসঙ্গে বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টিও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকাল বা ট্রানজিশনাল পিরিয়ড। ১৯৭২-৭৩ সালের ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে যদি রাষ্ট্রপতি সংবিধানসম্মতভাবে আদেশ জারি করতে পারেন, তাহলে ২০২৫ সালের ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে কেন তা সম্ভব হবে না? সরকারপক্ষ যদি এর সাংবিধানিক বা আইনি কারণ দেখাতে পারে, তাহলে আমরা আমাদের যুক্তি প্রত্যাহার করে নেব। কিন্তু যদি তারা সে কারণ দেখাতে না পারে, তাহলে আমাদের যুক্তি গ্রহণ করাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হবে।’
হটকারিতার মাধ্যমে জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না উল্লেখ করে সেমিনারে সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, জনগণকে বোঝাতে হবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে একটি গণপ্রতারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণভোট যেভাবে হয়েছে, সেটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। তা সংসদের ভেতরে হোক কিংবা প্রয়োজন হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে, এটি বাস্তবায়িত হবে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বেলায়েত হোসেন।