রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে সমাবেশ করেছে বামপন্থী ৯টি দলের জোট গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। ১৬ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে সমাবেশ করেছে বামপন্থী ৯টি দলের জোট গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। ১৬ মার্চ, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ চায় গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তিকে ‘বৈষম্যমূলক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে বামপন্থী ৯টি দলের জোট গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে এই চুক্তির ‘মূল হোতা’ উল্লেখ করে অবিলম্বে তাঁর অপসারণ দাবি করেছে তারা।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। বাণিজ্যচুক্তিকে ‘গোলামির চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে খলিলুর রহমানসহ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিচারের দাবি জানিয়েছে তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের নেতারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ধ্বংসাত্মক চুক্তির নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। চুক্তি সম্পাদনে তাঁর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে সক্রিয় ও তৎপর। এই একই ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এটি জনগণের সঙ্গে একটি নিষ্ঠুর প্রহসন।

যুক্ত ফ্রন্টের নেতারা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর খলিলুর রহমান নির্লজ্জভাবে ঘোষণা দিয়েছেন—‘এটি খুব ভালো চুক্তি’ এবং ‘দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে চুক্তি হয়নি’। তিনি আরও দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেই এই চুক্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াত এই ‘দেশ বিক্রির বিষয়ে সম্মতি’ দিয়েছিল। তাই বিএনপি সরকারকে অবিলম্বে এই চুক্তি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধির ‘কথা বলা’ মানে জনগণের সম্মতি নয় বলে মনে করেন গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের নেতারা। তাঁরা বলেন, সাংবিধানিক নীতি অনুযায়ী, দেশের সার্বভৌমত্ব–সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি সংসদে অনুমোদিত হতে হয়। এই চুক্তিতে তা হয়নি।

বিএনপি সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে মাথা নত করে রাখবে কি না, এই প্রশ্ন তুলেছেন বামপন্থী দলগুলোর নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, এটি বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এই ‘সাম্রাজ্যবাদী’ চুক্তি বহাল রেখে বিএনপি সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখার নীতিতে অটল থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা রাশেদ শাহরিয়ার, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী ও জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা এতে বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে জোটভুক্ত দলগুলোর নেত–কর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে পুরানা পল্টন পর্যন্ত মিছিল করেন।