ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে দলের দুই মেয়র প্রার্থী রেখে মাঝে দাঁড়িয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। আজ সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে দলের দুই মেয়র প্রার্থী রেখে মাঝে দাঁড়িয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। আজ সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ‘গোলামির চরিত্র’ প্রকাশ পেয়েছে: চরমোনাই পীর

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তিতে ‘গোলামির চরিত্র’ প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। এ ধরনের চুক্তি সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

আজ সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এ কথা বলেন। রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা হয়।

সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সবাইকে নিয়ে দেশ গঠন করবেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরেই বিভিন্ন জায়গায় দলীয় লোকজন বসানো হচ্ছে। সরকার যেন দলীয়করণ বাদ দিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়, সেই আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে অভিযোগ করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেন স্বচ্ছ হয়। এই নির্বাচন যেন দ্রুতই দেওয়া হয়, সে বিষয়ে সরকারকে অনুরোধ করেন তিনি।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর কথায় আস্থা রাখা যায়।

তবে জুলাই সনদ বা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন একেবারে চুপ হয়ে যায়নি বলেন জানান তিনি। সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরে সারা দেশে নেতা–কর্মীদের ভেতরে একটা স্থবিরতা চলে এসেছে। এখন তাঁরা মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির চেয়ে সংগঠনকে গোছানোর বিষয়ে বেশি নজর দিচ্ছেন।

চরমোনাই পীর বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরা মানবতার আচরণ করছেন না। সেখানে পশু জবাই দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি এ ধরনের আচরণের নিন্দা জানান।

সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। ঢাকা উত্তর সিটিতে ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং দক্ষিণ সিটিতে দলের প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফকে প্রার্থী করা হয়েছে।

প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশগ্রহণ করবে ইসলামী আন্দোলন, এমন সিদ্ধান্তই হয়েছে। ১১–দলীয় জোটের সঙ্গে তাঁরা যাবেন না।

ইসলামী আন্দোলন কেন নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে গেল

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে কেন ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে গেল, সভায় এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলটির আমির। তিনি বলেন, কওমি ধারার ইসলামপন্থী দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করেছিল ইসলামী আন্দোলন। পরে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সেটি নির্বাচনী জোট ছিল না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের বিষয় নিয়ে সরকারকে চাপ দেওয়ার লক্ষ্যেই দলগুলো কাছাকাছি এসেছিল বলে জানান তিনি।

তাঁর অভিযোগ, একপর্যায়ে জামায়াত সমঝোতাকে নিজেদের নেতৃত্বাধীন জোটে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপির সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়। এমনকি শরিকদের জন্য ১০০ আসনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রেজাউল করীম আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত গোপনে যুক্তরাষ্ট্র, খ্রিষ্টান মিশনারি ও ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তাঁর ভাষ্য, এসব ঘটনায় দুই দলের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়। পরে ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনী ঐক্যে থাকা পাঁচটি ইসলামপন্থী দলকে নিয়ে আলাদা বৈঠক করে। তবে দলগুলো জামায়াতের জোট থেকে সরে আসেনি।

অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছিল

বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টি, বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ইসলামী আন্দোলনকে জোটে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বলেন, আওয়ামী লীগ বলেন, বিএনপি বলেন—বিভিন্ন সময় তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে থাকে যে আপনারা যদি আমাদের জোটে থাকেন বা সমঝোতায় থাকেন, তাহলে আমাদের থেকে এই সুবিধাটা পাবেন। এটা জাতীয় পার্টিও কিন্তু প্রস্তাব অনেকবার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আমাদেরকে দিয়েছে। এটা আওয়ামী লীগও দেয়, বিএনপিও দেয় এবং অন্য সবাই দেয়।’

তবে ইসলামী আন্দোলন কয়েকজন সংসদ সদস্য, মন্ত্রিত্ব পাওয়া আর কিছু সম্মান–সম্পদের মালিক হওয়ার লক্ষ্য–উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতি করে না বলে উল্লেখ করেন দলটির আমির। ভবিষ্যতে ইসলাম, দেশ, মানবতার কল্যাণে যাদের সঙ্গে পাওয়া যাবে, তাদের সঙ্গে ঐক্য হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সে পথ খোলা রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, দলীয় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব ফজলে বারী মাসউদ প্রমুখ।