জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

এস আলমের গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেওয়া প্রসঙ্গ সংসদে, ব্যাখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ভারত থেকে দেশে ফেরার পর আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের মালিকানাধীন একটি গাড়িতে চড়ে নিজ এলাকায় গিয়ে সংবর্ধনা নেওয়ার পুরোনো বিতর্ক আবারও উঠল জাতীয় সংসদে। আজ বুধবার সংসদে এক আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নুন খেয়ে’ কিছু করছেন।

পরে নজিবুর রহমানের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নজিবুর রহমানের ‘সেন্স অব হিউমার’-এর জন্য তিনি তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেননি।

ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর কক্সবাজারে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল। সে সময় বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে যখন আমি গিয়েছি, লক্ষ লোকের সমাবেশ হয়েছিল। কোনো গাড়ি বিমানবন্দরে ঢোকার সুযোগ পায়নি। অনেক মাইক্রোবাস ছিল। একটাতে উঠলাম, সেখানে জায়গা হলো না। আরেকটাতে উঠলাম। পরে সমর্থকেরা আমাকে আরেকটি গাড়িতে উঠিয়ে দেয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, পরে তিনি জানতে পারেন যে গাড়িটি বহু পুরোনো এবং সেটি নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার বাস্তব ভিত্তি নেই। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেটা কোনো ব্যক্তির নামে গাড়ি না। ১৭-১৮ বছর আগের একটি গাড়ি। তারপরও যদি সেটা ভুল হয়ে থাকে, আমি জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছি। বিষয়টি তখনই পরিষ্কার হয়ে গেছে। এটা একটা পুরোনো ইস্যু।’

নিজের আর্থিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার চারটি গাড়ি আছে, আমার চারজন ড্রাইভার আছে। খুব একটা গরিব না।’ বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নজিবুর রহমানের উত্থাপিত মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে এবং পুরোনো একটি প্রসঙ্গ আবার টেনে আনা হয়েছে।

জবাবে স্পিকার বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সংসদের কার্যবিবরণীতে অসংসদীয় কোনো বক্তব্য থেকে থাকলে তা বিধি অনুযায়ী বাদ দেওয়া হবে।

ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্প

ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) প্রকল্পের টাকা জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল সংসদে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসত্য’ দাবি করেছেন দলটির সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান। একই সঙ্গে ওই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আজ জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নজিবুর রহমান এ দাবি জানান। গতকাল মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। আলোচনায় ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্পের টাকা একটি দলকে দেওয়া হয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর উল্লেখ করে নজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দুই দফায় মোট ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন, সেটা অসত্য। তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এর অডিট রিপোর্ট প্রতিবছর জমা দেওয়া হয়। আমি সেই অডিট রিপোর্ট দেখেছি এবং প্রয়োজন হলে মাননীয় স্পিকার আপনার কাছে জমা দেব।’

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৪ সালে আরডিএস প্রকল্পে মোট ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং ২০২৫ সালে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। ১১ হাজার ও ১১ হাজার মোট ২২ হাজার কোটি টাকার তথ্য তিনি কোথা থেকে পেলেন, আমি জানি না। এই তথ্য অসত্য। এটি সংসদের রেকর্ডে থাকা অবাঞ্ছনীয়।’

নজিবুর রহমান দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়ার) করার অনুরোধ জানান।

জবাবে স্পিকার বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার চলমান বা তাৎক্ষণিক কোনো বিষয়ের ওপর উত্থাপন করতে হয়। আলোচিত বিষয়টি আগের দিনের হওয়ায় তা পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, পয়েন্ট অব অর্ডার বর্তমান বা চলমান বিষয়ের ওপর উত্থাপন করতে হয়। বিষয়টি গতকালই অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। আজ আর এটি বৈধ নয়। তবু যদি আপনি প্রয়োজন মনে করেন, তবে নোটিশ দিতে পারেন।’