একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেওয়ার পর বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আজ সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে
একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেওয়ার পর বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আজ সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে

ডাকসু নির্বাচন: ছাত্রদলের বিক্ষোভ, প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন স্থগিতের আদেশ হওয়ার পর বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও ডাকসু নির্বাচনের প্যানেলের প্রার্থীদের উদ্যোগে সোমবার বিকেলে এই বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে বিকেল ৫টার দিকে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি ভিসি চত্বর থেকে শুরু হয়ে মধুর ক্যানটিন ঘুরে অপরাজেয় বাংলার সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা কারও নেই বলে মন্তব্য করেন ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, ৯ তারিখেই ডাকসু নির্বাচন হবে, আটকানোর সাধ্য কারও নাই।’

প্রশাসন ও ডাকসুর নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে আবিদুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা এমন একটা নির্বাচনের আয়োজন করেছেন, যেখানে নির্বাচন বন্ধের বিভিন্ন ফাঁকফোকর রেখেছেন।’

‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়া এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। এ বিষয়ে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম বলেন, ‘ফরহাদ তাঁর ছাত্রলীগের পদ ৫ আগস্টের আগে ও পরে কোনো সময় ত্যাগ করেনি। সব ছাত্রলীগের পদধারীদের বাদ দেওয়া হলেও তাঁকে রাখা হয়েছে।’

আবিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডাকসু নিয়ে রিটের বিষয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরকে ঠিক করেছে। আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা আমাদের সঙ্গে তামাশা করছেন? কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করতে আপনাদের এখানে বসানো হয়নি।’

ডাকসু নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের আচরণবিধি নিয়ে বারবার অভিযোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ‘কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সাবধান হয়ে যান। নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, আর কোনো টালবাহানা চলতে দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন স্থগিত করার কিছুক্ষণের মধ্যে চেম্বার আদালত ওই আদেশ স্থগিত করেন। ফলে ডাকসু নির্বাচন হতে এখন আর কোনো বাধা নেই।