
নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সব প্রার্থী সমান আচরণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আজ বুধবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ অভিযোগ তুলে তার উদাহরণ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কড়াইল বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও ইসির কোনো পদক্ষেপ না থাকার কথা বলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর আগামীকাল থেকে প্রচার শুরু করতে পারেবন প্রার্থীরা। তার আগে প্রচার চালানো নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
ঢাকার সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটা প্রশ্ন তুলেছিলাম। আপনারা জানেন, তিন মাস আগে কড়াইল বস্তিতে আগুন লেগেছিল। জনাব তারেক রহমান গতকাল সেখানে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেবেন। এটা নির্বাচনী আইন এবং বিধানের সরাসরি লঙ্ঘন।’
‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, নাহিদ ইসলামকে শোকজ দেওয়া হয়, কিন্তু তারেক রহমান গতকাল যখন সরাসরি এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন, তখন নির্বাচন কমিশন এখানে নিশ্চুপ থেকেছেন।’
প্রশাসন সবাইকে এক চোখে দেখছে না বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতা। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন একদিকে ঢলে যাচ্ছে। এখানে বৈষম্যমূলক নীতি হচ্ছে, অর্থাৎ তারেক রহমানের বেলায় এক নীতি আর অন্য প্রার্থীদের বেলায় এক নীতি।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গড়ে এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হিসেবে দুটি বিষয় সামনে রেখে প্রচার চালানোর কথা বলেন তিনি। তার একটি হলো, এই আসনের প্রার্থী হতে আগ্রহী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার।
‘আমাদের দুই নম্বর এজেন্ডা হলো, শহীদ ওসমান হাদি ভাই যে ইনসাফের ঢাকা-৮ গড়তে চেয়েছিলেন। আমরাও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে ইনসাফের একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যাতে আর কোনো ব্যক্তিকে হাদি ভাইয়ের মতো হারিয়ে যেতে না হয়,’ বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন এনসিপির এই প্রার্থী। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো পেশিশক্তি এবং টাকানির্ভর রাজনীতি করতে চাই না। আমরা মনে করি, গণ–অভ্যুত্থানের পর সুন্দর একটি প্রক্রিয়ার দিকে বাংলাদেশ যাচ্ছে, সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’
তাঁকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘গণভোটের পক্ষে “হ্যাঁ” ক্যাম্পেইন করার জন্য আমি একটি ব্যানার লাগিয়েছিলাম। সেই ব্যানারে কোনো প্রতীক ছিল না। তারপরও নির্বাচন কমিশন আমাকে শোকজ করে।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সেই ব্যানারটা সিটি করপোরেশনের লোক, বিএনপির লোক, ম্যাজিস্ট্রেট একসাথে গিয়ে তুলেছে। এখন আমাদের প্রশ্ন হলো, প্রশাসন ও বিএনপি যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে সুষ্ঠ নির্বাচনের নিশ্চয়তা বিধানটা করবে কে?’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বিষয়টি তিনি (নাসীরুদ্দীন) নির্বাচন কমিশনের কাছে বলতে পারেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অনেক কথা বলবেন। সব কটি হয়তো আমাদের আওতায় নয়। আমাদের আওতায় থাকা বিষয়ে যদি কেউ আনুষ্ঠানিক বা লিখিতভাবে অভিযোগ করেন, তাহলে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।’