নির্বাচনী জনসংযোগে গিয়ে এক ভোটারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন ঢাকা–১৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক। মিরপুর–১২ নম্বর সেকশন, ঢাকা। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী জনসংযোগে গিয়ে এক ভোটারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন ঢাকা–১৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক। মিরপুর–১২ নম্বর সেকশন, ঢাকা। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

কোনো চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেব না: প্রচারণায় আমিনুল হক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হক বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজির সমস্যা রয়েছে। তবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কোনো চাঁদাবাজ বা মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

আজ শুক্রবার বিকেলে নির্বাচনী জনসংযোগ চালানোর সময় প্রথম আলোকে এ কথা বলেন আমিনুল হক। ওই সময় তিনি রাজধানীর মিরপুর–১২ নম্বর সেকশনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় প্রচার চালাচ্ছিলেন।

আমিনুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার এলাকায় মাদকের কিছু সমস্যা আছে। কিছু চাঁদাবাজ আছে। আমি আমার এলাকায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে চাঁদাবাজমুক্ত ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ব।’

আমিনুল হক আরও বলেন, ‘সে যে–ই হোক না কেন, আমরা কোনো অন্যায়কারীকে, কোনো চাঁদাবাজকে, কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেব না। আমরা পরিপূর্ণভাবে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই।’

আজ বেলা তিনটার দিকে মিরপুর–১২ নম্বর সেকশনের সি–ব্লকের ২ নম্বর অ্যাভিনিউ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হেঁটে হেঁটে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন আমিনুল হক। তাঁর সঙ্গে শত শত নেতা–কর্মী ছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ আমিনুল হকের আগে আগে হ্যান্ড মাইকে তাঁর প্রচারে আসার খবর এলাকাবাসীকে জানাচ্ছিলেন। আর সারিবদ্ধভাবে আমিনুল হকের পেছনে হাঁটছিলেন শত শত কর্মী ও সমর্থক। অনেকে তাঁর কাগজের প্রচারপত্র বিলি করছিলেন। থেমে থেমে ধানের শীষ ও আমিনুলের পক্ষে স্লোগানও দিচ্ছিলেন কেউ কেউ।

এ সময় অনেক মানুষকে বাড়ির ফটকের সামনে আমিনুল হকের জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আমিনুল হক ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের কাছে গিয়ে হাত মিলিয়ে লিফলেট দিয়ে দোয়া চান এবং নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। আর বারান্দা কিংবা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

সি–ব্লকের ৯ নম্বর সড়কের এক প্রান্তে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) রয়েছে। বিকেলে গৃহস্থালি থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য এসটিএসে অপসারণের কাজ করছিলেন ভ্যান সার্ভিসের কর্মীরা। আমিনুল হক তাঁদের কাছে যান, হাত মেলান এবং দোয়া চেয়ে ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।

মিরপুর–১২ নম্বর সেকশনে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের কর্মীদের কাছে প্রচারপত্র বিলি করে ভোট চান ঢাকা–১৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রচারের এক ফাঁকে আমিনুল হক প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। জনগণকে কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জানতে চাইলে আমিনুল হক বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করে। আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলেছি। আমার এই নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেক মানুষ, মুরব্বি, বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে ছোট ছোট বাচ্চা—সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেছি।’

বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, তিনি এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে প্রতিটি পরিকল্পনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।

আমিনুল হক আরও বলেন, ‘আমার এই এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ, মধ্যম আয়ের মানুষ ও উর্দুভাষীদের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা হবে। আমি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এলাকার প্রতিটি ঘরে, যারা অর্থের অভাবে পড়তে পারে না, তাদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করব। যারা অর্থের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারে না, তাদের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই।’

ভোটারদের সাড়া কেমন পাচ্ছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে আমিনুল হক বলেন, ‘আমি সকালে ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার শুরু করেছি। প্রতিটি এলাকায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে অভিবাদন ও অকুণ্ঠ ভালোবাসা জানাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। সবাইকে নিয়ে দলমত–নির্বিশেষে একটি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

প্রতিপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, মিথ্যাচার করছে।… তাদের বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দেখেছে। সেই মানুষগুলোকে নতুন করে দেখার কিছু নেই। যে রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগেই মিথ্যাচার ও প্রতারণায় অবতীর্ণ হয়েছে, নির্বাচনের পর তারা দেশের জন্য কী করবে, বাংলাদেশের মানুষ ভোটের দিন ব্যালট পেপারের মাধ্যমেই তার জবাব দেবে।’