পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে, ১০ সেপ্টেম্বর
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে, ১০ সেপ্টেম্বর

পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষী ভাবেনি আওয়ামী লীগ পালিয়ে বিদায় নেবে: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষী, পৃথিবীর কোনো গোয়েন্দা সংস্থাও ভাবেনি যে আওয়ামী লীগ এভাবে পালিয়ে বিদায় নেবে। আজ বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে হামদ, নাতে রাসুল, কেরাত ও রাসুলের জীবনীর ওপর রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। উপস্থিত আলোচকেরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ইসলামের বিধান ও মহানবীর আদর্শ মানবজাতির কল্যাণের জন্য।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা কথা আপনাদের মতো মুরব্বিদের বলতে চাই, পঁচাত্তর সালে যে ঘটনাটা ঘটেছিল, মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা একটা বিশাল ঘটনা ঘটিয়েছিল। সেদিন বিশাল রক্ষীবাহিনী শেখ মুজিবকে, তাঁর পরিবারকে এবং আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই রক্ষীবাহিনী কিন্তু টুঁ শব্দও করেনি। আল্লাহ যা চান, তা–ই হয়। আল্লাহর প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস থাকা উচিত।’

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহ মহানবীকে দূত ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমরা বড় সৌভাগ্যবান উম্মত। তাঁর জীবনের প্রতিটি দিক ও অধ্যায় আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা। আল্লাহ বলেন, তোমাদের জন্য রাসুলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ কোরআন-হাদিস অনুযায়ী চললে কেউ ক্ষতি করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলমানদের নয়, শিক্ষকদের জন্যও আদর্শ। মুসলমানরা জ্ঞানের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে ফেলায় পিছিয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞানের সংজ্ঞা পরিবর্তন করতে হবে। রাসুলের কাছে জ্ঞান দুই ধরনের—ইলমে নাফে ও ইলমে গায়ের। ইলমে নাফে সমাজের উপকার ও পরিবর্তনে আসে। যে জ্ঞান সমাজের উপকারে আসে না, তা সমাজের জন্য অকল্যাণকর।

মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী আরও বলেন, আপনার কাছে যদি একজন অমুসলিম ব্যক্তি নিরাপদ থাকে, তাহলে মনে করতে হবে আপনি রাসুলের খাঁটি উম্মত। আর আপনার কাছে যদি একজন অমুসলিম নিরাপদ না থাকে, তাহলে মনে করবেন যে আপনি রাসুলের উম্মত নন, রহমাতুল্লিল আলামিনের উম্মত নন। আপনার কাছে যদি গরু-ছাগল নিরাপদ না থাকে, তাহলেও মনে করবেন যে আপনি রাসুলে পাক রহমাতুল্লিল আলামিনের উম্মত নন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়। অনেকে বলেন, মিলাদুন্নবী (সা.) বলতে কিছু নেই—যাঁরা বলেন, এটা ঠিক না। মিলাদুন্নবী (সা.) অর্থ নবীর জন্মগ্রহণ। সুরা আল ইমরানে আছে, আল্লাহ সব নবীকে সঙ্গে নিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। এই দিনে তাঁর আগমন হয়েছিল বলে তিনি রোজা পালন করতেন। ফলে নবীর আগমন উপলক্ষে আমাদেরও মিলাদুন্নবী পালন করা উচিত। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মিলাদুন্নবীর দিন সবচেয়ে বড় রহমত ও আনন্দের দিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্‌যাপন ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমিন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারী ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।