
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারপ্রধানের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এত বড় ব্যর্থতা কী আর হতে পারে যে তিনবারে সাত মাসের মধ্যে দাম বাড়ানো লাগল? তাহলে কী করে আপনি সামনের পাঁচ বছর অতিবাহিত করবেন?’
আজ সোমবার বিকেলে বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। ‘হঠাৎ কোনো ঘোষণা ছাড়াই সরকার কর্তৃক জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার সাত মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। পেট্রল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন—যে চারটি জ্বালানি প্রতিদিনের মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত। এখানে এক টাকা দাম বাড়ার অর্থ হলো সব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আর মন্ত্রী যিনিই এ ব্যাখ্যা দেন, লোকসান হয়ে যাচ্ছে, ভর্তুকি বেড়ে যাচ্ছে। তো আপনার লোকসান হলে, ভর্তুকি দিলে আপনার দক্ষতা, রেভিনিউ, সরকারের সামর্থ্য দিয়ে, সামলিয়ে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন—এটা আপনার দায়িত্ব। আপনি কি একটা দোকান খুলেছেন যে দোকানে লোকসান হয়ে যাচ্ছে? বাংলাদেশটা কি একটা দোকান না একটা লিমিটেড কোম্পানি? ভর্তুকি আপনি দেন।’
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘জনগণের খাজনা ও ট্যাক্সের পয়সা দিয়ে মন্ত্রী–এমপিদের ছেলেরা হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করবে, বিদেশে অর্থ পাচার করবে আর কৃষকের সারের ভর্তুকি দেওয়ার সময় আপনি বলবেন যে লোকসান যাচ্ছে। পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে ভর্তুকি দিতে হয়, আমাদের কেমিক্যাল করপোরেশনে ভর্তুকি দিতে হয়—এই কথা বাংলাদেশের জনগণ শুনতে চায় না।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিদ্যুৎ আর জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব যাঁকে দিয়েছেন, সারা দেশের লোকেরাই বলতেছে যে এই লোকই আগেরবার বেগম জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন...তাঁর হাতে যখন বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল; লোকেরা সেই সময় বলেছিল, এখনো বলে যে এই টুকু সাহেবই বিএনপিকে ডুবাইছিল, এবারও টুকু সাহেবই ডুবাবে।’
অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যা মন চায়, তা–ই করছে। ক্ষমতার জন্য যা যা নিরাপদ, সেটিই করতে শুরু করেছে। এর নাম ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদ।
সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘গণভোটের গণরায়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাতিল করে দেবেন, বাংলাদেশের ৭০ ভাগ লোক বসে বসে আঙুল চুষবে না। রাজপথে এর ফায়সালা হবে।’
সরকার দখলদারি ও নৈরাজ্যের অপরিণামদর্শী পথ থেকে ফিরে না এলে গ্রাম, শহর, নগর, বন্দর থেকে রাজধানী অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে বলে হুঁশিয়ার করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সরকারের মধ্যে একটি অশুভ চক্র আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত সেক্রেটারি।
সরকার দিল্লির সঙ্গে সংযোগ করে জামায়াতকে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ এনে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে আগে যারাই মোকাবিলার স্বপ্ন দেখেছে, তারাই নিজেরা ব্যর্থ হয়ে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে করে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার দেশ পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সাত মাসের সরকার পরিচালনার ব্যর্থতার কারণে জনগণ সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এ জন্য সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে জোর করে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশাসনের মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) প্রমুখ।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত। মহাখালীর কলেরা হাসপাতালের সামনে মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সেখানে তিনি বলেন, সরকার গভীর রাতে প্রেস নোট জারি করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, রান্নাবান্নাসহ কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, পরিবহন সবকিছু ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। জামায়াত দলের বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে সরকারকে সংকট নিরসনে সহযোগিতা করতে চেয়েছে। তবে সরকার কোনো সাড়া দেয়নি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১১–দলীয় ঐক্য ছয় দফা দাবিতে লংমার্চ শুরু করেছিল। সেটি এখন আট দফা হয়েছে। সরকারের বাড়াবাড়ি, অজ্ঞতা ও অসহযোগিতার কারণে এই আট দফা যাতে এক দফায় আনতে না হয়।