বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সাক্ষাৎকার: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

কোনো ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে হয় না

ভোটের অপেক্ষায় সবাই। আগামীকাল সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে গতকাল প্রথম আলো কথা বলেছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেলিম জাহিদ

প্রশ্ন

এক দিন পরেই তো ভোট, টানা ১৯ দিনের প্রচারে সহিংসতা সে অর্থে খুব বেশি হয়নি। ভোটের দিনটা কেমন হবে বলে মনে করছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম: না, আমি মনে করি ভোটের দিনে একই রকম থাকবে। কারণ, এখানে মূল দল—বিএনপি ও জামায়াত দুটোই কিন্তু সংযম অবলম্বন করছে। অনেক জায়গায় যে সমস্যা হয়েছে; কিন্তু যে আকারে হয় অন্য ইলেকশনগুলোতে, সেই আকারে কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছু হয়নি; বরং বলা যায় যে বেটার সিচুয়েশন, আমি আশাবাদী যে ইলেকশনের দিন ভালোই থাকবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ছোট ভাই ফয়সল আমীনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে পথসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
প্রশ্ন

প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন সময় আপনারা প্রশ্ন তুলেছেন। জামায়াতসহ অন্য দলগুলোও প্রশ্ন তুলেছে। ইসির নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে কোনো সংশয় আছে?

মির্জা ফখরুল ইসলাম: আমার কাছে মনে হয়, যে অভিযোগগুলো তোলা হয় ইসির ব্যাপারে, এগুলোর কিছুটা সত্য, কিছু সত্য না। আমি এখন পর্যন্ত ইসির ভূমিকা খুব ভালো দেখেছি। অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুযায়ী, এখানে আমার এলাকাতে, আশপাশে দেখছি, আমি তো নেগেটিভ কিছু দেখছি না।

নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল্টিহরি বাজারে
প্রশ্ন

ভোট নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম: এটা এখন পর্যন্ত আমার কাছে মনে হয় নাই। আমি কোনো সমস্যা দেখি না বা এ ধরনের মনে হয় না।

প্রশ্ন

এবারের নির্বাচনে দুটি বিষয় সামনে এসেছে। একটা হলো আপনাদের দিক থেকে একাত্তর ইস্যু, জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতার বিরোধিতা। আর জামায়াত চাঁদাবাজিকে সামনে এনেছে। মানুষ কোনটা গ্রহণ করছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম: এটা এখনই বলব কী করে। আগে ইলেকশনটা হোক, হলে বুঝতে পারবেন মানুষ কোনটা গ্রহণ করছে। আবার ১৯৭১ সালকে বাদ দিয়ে যারা চিন্তা করে, তারা তো স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করেনি। তাদের মানুষ নেবে (ভোট), এটা আমি মনে করতে পারি না। মানুষ কোনটাকে গ্রহণ করছে, এটা ইলেকশনেই পাবেন। তবে আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতাকেই গ্রহণ করবে।

প্রশ্ন

এবারের নির্বাচনী প্রচারে ধর্মকে ব্যবহার বা ধর্মের অপব্যবহার করার অভিযোগ ছিল আপনাদের। এ বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কী?

মির্জা ফখরুল ইসলাম: (ধর্মের ব্যবহার) কিছুটা হয়েছে, মহিলাদের মধ্যে। বিশেষ করে যাঁরা একটু ধর্মভীরু, তাঁদের মধ্যে কিছুটা হয়েছে। কিন্তু সাধারণভাবে হয়েছে বলে আমরা মনে হয় না। ধর্মের ব্যাপারটা জামায়াত যেভাবে প্রচার করে, সেটা তো ধর্ম না। সেটা তো রাজনীতি।

প্রশ্ন

কোনো চাপ অনুভব করছেন মাঠে?

মির্জা ফখরুল ইসলাম: না না। কোনো চাপ নেই। আমারটা খারাপ ছিল কবে ভাই? ইট ওয়াজ এ মিডিয়া ক্রিয়েটিভ স্টোরি, যে আমার অবস্থা খারাপ। জামায়াত এটা ক্রিয়েট করছিল, আপনারা এটা কেরি করেছেন, দ্যাট ওয়াজ দা স্ট্র্যাটেজি অব জামায়াত। আমার এখানে আল্লাহর হুকুমে কোনো দিনই খারাপ ছিল না।

প্রশ্ন

নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়, তাহলে ফলাফল মেনে নেবেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম: এক শ বার। আমি না মানার তো কোনো কারণ দেখি না।