জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা বাড়ানো, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে’ সুপারিশ দেওয়ার জন্য গত ২৬ এপ্রিল এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য ছিলেন। কমিটি দুটি বৈঠক করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ কমিটি মনে করে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। বর্তমান সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বহুমুখী জ্বালানি উৎস নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
কমিটির অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন করে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করা; অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করা; বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার (এলএনজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি) বৃদ্ধি, ঢাকা–চট্টগ্রাম পাইপলাইন ও এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল–২ দ্রুত বাস্তবায়ন; জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা; বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্য আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণা করা; ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি তা চলছে কি না, এর তদারকি জোরদার করা; সিস্টেম লস হ্রাস করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; তেল, গ্যাস, কয়লা, সোলার, উইন্ড—এসব খাত থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিটিতে থাকা বিরোধী দলের সদস্যদের পক্ষ থেকে ১০টি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়। তাদের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা পূর্বাভাসের জন্য সরকারের উচিত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কমিটির মাধ্যমে সমীক্ষা করানো; কয়লা সাশ্রয়ী হওয়ায় এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করা; আমদানি করা গ্যাসের দাম বেশি হওয়ায় দেশীয় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো এবং দ্রুত জ্বালানি অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ করা; তুলনামূলক কম ব্যয়ে উৎপাদন বাড়াতে গ্যাস কূপগুলোর ওয়ার্কওভার গ্রহণ এবং দ্রুত ফলদায়ক কূপগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো; জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধন অবকাঠামো শক্তিশালী করা; সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো।
বিরোধী দলের সুপারিশে আরও রয়েছে জ্বালানি সংকটকালীন সরকারি দপ্তরগুলো কম যানবাহন ব্যবহার এবং গাড়ির আসন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা; টেকসই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠান এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে একটি কৌশলগত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা এবং একক জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বহুমুখী উৎসের সুপারিশ করা হয়।