আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ‘হাদি সমাবেশ’ করার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ ঘোষণা দেন।
এর আগে জুমার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে অবস্থান নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। একই সঙ্গে হাদি হত্যার বিচার চেয়ে স্লোগান দেন তাঁরা। পরে বিকেল চারটার দিকে হাদি সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন।
এ সময় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস জাস্টিস’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘বইলা গেছে হাদি, আমার হত্যার বিচার চাই’ প্রভৃতি স্লোগান দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা।
হাদি সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাদি সমাবেশ করব। সেখানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে। তারিখ ও সময় পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। সমাবেশ থেকে একটাই বার্তা দেব, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে যারা যাবে, তারা কোনো দিন দেশের মাটিতে আশ্রয় পাবে না। দেশের মাটিতে তাদের জানাজা পর্যন্ত হবে না।’
সব রাজনৈতিক দলকে এই সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে উল্লেখ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, ‘সমাবেশে অংশ নিতে অনুরোধ করে আমরা সব রাজনৈতিক দলের কাছে যাব। সমাবেশের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কী চায়, সেটি নিশ্চিত হয়ে যাব। এরপর আমরা ৩০০ আসনে ইনসাফের জন্য ছড়িয়ে–ছিটিয়ে যাব। আমরা কোনো বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, চরমোনাই চিনি না। আমরা শুধু চিনি ইনসাফ। আমরা তাদেরই ভোট দেব, যারা ইনসাফের পক্ষে দাঁড়াবে। যারা হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকবে। সমাবেশের পরে আমাদের লড়াই ৩০০ আসন ধরে শুরু হবে।’
অভিযোগপত্রের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ডিবি অফিস থেকে বলা হয়েছে, যেদিন শহীদ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়, সেদিন পাঁচটি টিম ছিল। তাহলে চার্জশিটে শুধু যারা গুলি করেছে, তাদের নাম কেন? বাকি টিমগুলো কোথায়? আমরা জানতে চাই।’
জনগণ ও আগামী দিনে যাঁরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবেন, তাঁদের উদ্দেশে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের পক্ষে থাকবেন। এর বিপক্ষে গেলে ভোটের ব্যবধান লাখ নয়, হবে কোটি কোটি। যত দ্রুত এই সত্য মাথায় নেবেন, ততই মঙ্গল। ওসমান হাদিকে শুধু ধারণ করবেন, বিচার চাইবেন না, সেটা হবে না।’