বিক্ষোভ মিছিলের আগে সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বিসিএল) নেতারা। আজ সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের পাদদেশে
বিক্ষোভ মিছিলের আগে সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বিসিএল) নেতারা। আজ সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের পাদদেশে

ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে রাজুর সরঞ্জাম সরানো, গণজাগরণ মঞ্চকে ‘মব সন্ত্রাস’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মইন হোসেন রাজুর ব্যবহৃত ব্যাগ, রংতুলি, ডায়েরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেছে তিন বাম ছাত্রসংগঠন। একই সঙ্গে ২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে সংগ্রহশালায় ‘বিকৃতভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

আজ সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের পাদদেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) আয়োজিত মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করা হয়। পরে তারা ডাকসু ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সঙ্গে শহীদ মইন হোসেন রাজুর স্মৃতি জড়িত। তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিছিল করতে গিয়ে রাজু শহীদ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাজু শহীদ হওয়ার সময় তাঁর ব্যবহৃত ব্যাগ, রংতুলি ও ডায়েরি সংগ্রহশালায় ছিল। ডায়েরিতে তিনি প্রতিদিনের বিভিন্ন ঘটনা লিখতেন এবং কবিতা লিখতেন। কিন্তু বর্তমানে এসব উপকরণ সংগ্রহশালায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, সংগ্রহশালায় আগে কী কী উপকরণ, স্থিরচিত্র ও ঐতিহাসিক জিনিসপত্র ছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আগের তালিকা থেকে কোন উপকরণ যুক্ত হয়েছে এবং কোনগুলো সরানো হয়েছে, তারও তালিকা দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃত করে নতুন করে যেসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো অপসারণের দাবি জানান তিনি।

২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের প্রসঙ্গে বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলনকে সংগ্রহশালায় ‘মব ভায়োলেন্স’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় এক শিশুর মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবিকে ‘টোকাই’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, ডাকসুর ইতিহাস বাংলাদেশের জন্ম ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। এই ইতিহাসের স্মারক হিসেবে ডাকসুতে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, সংগ্রহশালা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। জিন্নাহর যে ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে, সেটিতে তিনি ঢাকায় এসে ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে এই বাংলার একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ বলেছিলেন। তাঁর ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন এবং পরে ভাষা আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল।

মুক্তা বাড়ৈ আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ওই আন্দোলনের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। সংগ্রহশালায় গণজাগরণ মঞ্চের ছবি ব্যবহার করে আন্দোলনটিকে ‘মব সন্ত্রাস’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

মানববন্ধন শেষে তিন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ডাকসু ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে ‘পাকিস্তানের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘জিন্নাহর ছবি কেন, ডাকসু জবাব দে’, ‘জিন্নাহর দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘রাজাকারের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।