কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগরে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির এ কথাগুলো বলেন।
মামুনুল হক বলেন, একজন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটি রাষ্ট্রের আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
একই সঙ্গে কিছু মহল এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনাকে ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত বলেও মন্তব্য করেন মামুনুল হক। এ ধরনের অপতৎপরতার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশকে বিভাজন ও উত্তেজনার রাজনীতি থেকে রক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ‘তৌহিদি জনতা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে দেশের বৃহৎ ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীকে সমষ্টিগতভাবে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের একটি অপপ্রয়াস চলছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় গোটা ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো অন্যায়, অযৌক্তিক এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক ও উসকানিমূলক শব্দচয়ন পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মামুনুল হক মনে করেন, এ ধরনের সহিংস ঘটনার পেছনে অনেক সময় স্থানীয় রাজনীতি, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কুষ্টিয়ার এই ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এসব দিককে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে যা ঘটেছে তা ধারাবাহিক ও দীর্ঘকালীন আইনের শাসন না থাকার একটি নগ্ন দৃষ্টান্ত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কথিত পীর বহু বছর ধরে ইসলাম বিকৃত করে মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে যাচ্ছিল। ধর্ম পালনে প্রত্যেকের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু কোনো ধর্মকে বিকৃত করা কারও অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে না।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কথিত এই পীর দীর্ঘদিন যা করছিল তা ধর্মীয় স্বাধীনতা নয়, বরং ধর্মবিকৃতি। প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে তাঁকে ঘিরে যে গণবিক্ষোভ দানা বাঁধছে, তা–ও প্রশাসন যথাযথভাবে আমলে নেয়নি। যার ফলে এমন একটা ঘটনা ঘটল, যা বাংলাদেশের সুনামহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’