
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেছেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুতর ব্যর্থতা আর অদূরদর্শিতা এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার না করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের ওপর নতুন করে চড়াও হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা করেছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি বলেও মনে করেন তিনি।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় হাসনাত কাইয়ূম এ কথা বলেন।
‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন প্রদত্ত প্রস্তাবনা ও আজকের বাস্তবতা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।
আলোচনায় সভায় হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দুই বছর আগে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে রাষ্ট্রের কাঠামোগত রূপান্তর, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে স্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, তারা তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। সেই অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতাতেই আজকের বিএনপি সরকার গণরায়কে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অরাজকতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিহীনতা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের স্বার্থবিরোধী ‘গোলামির চুক্তি’ স্বাক্ষর—সবই সেই পুরোনো স্বৈরাচারী ও মাফিয়াতান্ত্রিক ব্যবস্থারই পরম্পরা।
দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব কখনো ছিল না উল্লেখ করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সেটা অর্জনের চেষ্টা না করে বর্তমান সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে চরম ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের রায় দিয়েছিল, তা তো বাস্তবায়ন করা হয়-ই নি, বরং জনগণকে জিম্মি করে বহুজাতিক স্বার্থ ও বিদেশি শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত অর্জনকে এভাবে হাতছাড়া হতে দেওয়া যায় না উল্লেখ করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি বলেন, ‘আমরা দুই বছর আগেই হুঁশিয়ার করেছিলাম যে ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তী সরকার) যদি সরকারের জবাবদিহির একটা মডেল দেখাতে না পারে, অভ্যুত্থানের স্পিরিট রক্ষা করা যাবে না। আজকের বাস্তবতা প্রমাণ করছে—সংস্কারের যে লড়াই আমরা শুরু করেছিলাম, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেই লড়াই এখন দ্বিগুণ শক্তিতে সম্মিলিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।’
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার।