
কৃষ্ণ নন্দী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়ে অনেকেরই দৃষ্টি কেড়েছেন। আবার অনেকের মনোযোগ খুলনা-১ আসনের দিকে এই কারণে যে জামায়াতের মতো একটি ইসলামপন্থী দল একজন হিন্দু ব্যক্তিকে কেন প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাল। কৃষ্ণ নন্দীকে নিয়ে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন। কিছু প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়েছেন প্রথম আলোর কাছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল।
আপনি ব্যবসায়ী। কিসের ব্যবসা আপনার?
কৃষ্ণ নন্দী: আমার মোটরসাইকেলের ব্যবসা। রড-সিমেন্টের ব্যবসা। তেল-চিনির ব্যবসা। সারের ব্যবসা। টিনের ব্যবসা।
আপনি আগে কোনো দিন রাজনীতি করেছেন?
কৃষ্ণ নন্দী: আমি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাত ধরে জামায়াতে যোগ দিয়েছিলাম ২০০৩ সালে। আমি আর কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নই।
কত পুরোনো ব্যবসা আপনার?
কৃষ্ণ নন্দী: আমার ব্যবসা ৪০ বছরের পুরোনো। আমার ৪০ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আপনার কি কোনো সমস্যা হয়েছিল?
কৃষ্ণ নন্দী: ৫ আগস্টের পর অনেক চাঁদাবাজি-নির্যাতন হয়েছে। মানুষ জানে কারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এর জবাব মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে দিয়ে দেবে।
তখন কি জামায়াত আপনার পাশে দাঁড়িয়েছিল?
কৃষ্ণ নন্দী: অবশ্যই দাঁড়িয়েছিল। জামায়াত নিবেদিতপ্রাণ। বাংলাদেশে জামায়াত হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে জামায়াত। শুধু আমার পাশে নয়; হিন্দু, মুসলমান সবার পাশে তারা দাঁড়িয়েছে।
গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে আপনার কী ব্যক্তিগত সম্পর্ক?
কৃষ্ণ নন্দী: গোলাম পরওয়ার আমার নেতা। তাঁর আদর্শ ভালো লাগে বলে আমি ২০০৩ সাল থেকে জামায়াতের রাজনীতি করি। তিনি আমাকে রাজনীতিতে এনেছেন। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক রাজনৈতিক। কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়।
আপনি নিজে যে এলাকার ভোটার, সেখানে নির্বাচন না করে খুলনা-১ আসনে কেন প্রার্থী হলেন?
কৃষ্ণ নন্দী: এটা দলের সিদ্ধান্ত। ওই এলাকায় প্রার্থী গোলাম পরওয়ার নিজে। সেখানে তো আমি প্রার্থী হতে পারি না। তাই এই এলাকায় নির্বাচন করছি।
আপনার কাছে কী মনে হয়, এখনকার কাজটি ঠিক হয়েছে?
কৃষ্ণ নন্দী: অবশ্যই ঠিক হয়েছে। আমি সংসদে গিয়ে হিন্দুদের কথা বলব। সেই জন্য তো আমি নির্বাচন করছি।
এখানে এসে একটি স্লোগান শুনলাম। ‘হরে কৃষ্ণ হরি বোল, দাঁড়িপাল্লা টেনে তোল’। এটা আপনার নির্বাচনী স্লোগান?
কৃষ্ণ নন্দী: এই স্লোগান কিন্তু আমরা এখানে শুরু করিনি। ‘হরে কৃষ্ণ হরি বোল, দাঁড়িপাল্লা টেনে তোল’ এটা ৩১ অক্টোবর হিন্দু সম্মেলনের স্লোগান ছিল। ডুমুরিয়ায় হিন্দু সম্মেলন হয়েছিল, তারই স্লোগান ছিল।
আপনি ভোটারদের কী বলছেন?
কৃষ্ণ নন্দী: আমি এই এলাকার সমস্যা জানি। শিক্ষাব্যবস্থা অনুন্নত, স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনুন্নত, রাস্তাঘাট অনুন্নত। সবকিছুর অবস্থা খুবই খারাপ। এর সবকিছু পরিপূর্ণভাবে সাজাতে হবে। নদীভাঙন খুব বেশি। এসব সমস্যা নিয়ে কথা বলছি। এসব সমস্যা সমাধানের কথা বলছি।
জাতীয় সংসদে আপনি এই এলাকার মানুষের জন্য কী বলবেন?
কৃষ্ণ নন্দী: এই এলাকার মানুষের কথা জাতীয় সংসদে আলোচনা হয় না। আমি আলোচনা করব। এই এলাকার মানুষের উন্নত সেবা দেওয়ার কথা বলব। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস নির্মূল করার কথা বলব।
জামায়াতে ইসলামী তো বাংলাদেশে ইসলাম কায়েম করতে চায়। আপনি কীভাবে তা কায়েম করবেন?
কৃষ্ণ নন্দী: জামায়াতে ইসলামী শুধু ইসলামের জন্য কাজ করবে—এ কথা কোথাও বলা নেই। জামায়াত হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সবার জন্য। জামায়াত সত্যের দল, সততার দল।
আপনার কি মনে হয়, আপনার ঘটনা বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে?
কৃষ্ণ নন্দী: না। আমি মনে করি হিন্দুদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। জামায়াতে ইসলামী নীতি-আদর্শের দল। দাকোপ-বটিয়াঘাটার মানুষ যদি ভোট দিয়ে আমাকে সংসদে পাঠায়, তবে আমি সংসদে তাদের কথা বলব।
এলাকা ঘুরে কী মনে হচ্ছে? ভোটাররা আপনাকে কীভাবে নিচ্ছেন?
কৃষ্ণ নন্দী: মানুষ ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। মানুষ আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনে জিতলে আপনি এসে দেখে যাবেন—আমি এলাকার মানুষের জন্য কী করেছি।