জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নে উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। পিআর পদ্ধতি হলে উচ্চকক্ষ চাই না—এমন বক্তব্য যারা দেয়, তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে।’
আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে এ কথাগুলো বলেন আখতার হোসেন।
দেশের মানুষ দীর্ঘদিন নির্যাতন, গুম-খুনের মধ্য দিয়ে গেছে উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান হয় নাই। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য অভ্যুত্থানে আমরা অংশ নিয়েছিলাম।’
এনসিপির সদস্যসচিব আরও বলেন, শুধু নির্বাচন দিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে হলে নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমাবেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলি, বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধানকে রেখে কোনো দিন বাংলাদেশপন্থী বাংলাদেশ সম্ভব নয়। আমাদের নতুন সংবিধান লাগবে। গণপরিষদ নির্বাচন লাগবে। নারীদের ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’
আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ১৯৪৭ সালের উপনিবেশবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সারজিস আলম।
জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পার হলেও দেশ থেকে মুজিববাদী ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জে এখনো মুজিববাদীদের আস্তানা গেড়ে রয়েছে। মুজিববাদীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় রয়েছে।’
মুজিববাদের প্রশ্নে, স্বৈরাচারের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন করে মুজিববাদী ভারতপন্থী শক্তিগুলো এখন সক্রিয় হচ্ছে। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু এই বাংলাদেশে বাংলাদেশপন্থী ব্যতীত অন্য কোনো দেশপন্থীর আর জায়গা হবে না।’
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে অভ্যুত্থান–পরবর্তী সরকারের ভূমিকায় থাকার আহ্বান জানান সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে আমাদের বিচার লাগবে। এই বাংলাদেশে খুনি হাসিনার বিচারের রায় হতেই হবে। বিচারের রায় কার্যকর আমরা দেখতে চাই।’
এ ছাড়া সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা কারও অন্ধভাবে দালালি করব না। কেউ যদি চাঁদাবাজি করে আমরা সেটা মুখের ওপরে বলে দেব। কেউ যদি সিন্ডিকেট চালায়, দখলদারি করে, আমরা সেটাও বলব। তবে আওয়ামী লীগের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।’