রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবার শরিফে হামলা এবং তাঁর মরদেহ কবর থেকে তুলে পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা।
আজ শনিবার এক বিবৃতিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা এসব দাবি জানিয়েছে। মোর্চার সমন্বয়ক বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের আহ্বায়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান এই বিবৃতি দিয়েছেন।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশে মব সন্ত্রাস (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণ) পরিচালিত হচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করেন ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার নেতারা। মব সন্ত্রাসীদের পক্ষে সরকারের অবস্থানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তাঁরা।
ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার নেতারা বলেন, সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। ভাস্কর্য, মাজার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর-উপাসনালয় ভাঙচুর ও লুটপাটসহ নারীদের ওপর আক্রমণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করছে। মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ খুন করছে।
নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে পোড়ানোর বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়ালন্দে মাজারে হামলা করে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং কবর থেকে মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে পৈশাচিক নৃত্য করেছে। ভিন্নমতাবলম্বী হওয়ার কারণে উগ্র মৌলবাদীরা মানুষ হত্যা করছে। কিন্তু কবর থেকে মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার বর্বরোচিত ঘটনা এই প্রথম।
মব সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করছে বলেও মন্তব্য করেন ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার নেতারা। তাঁরা বলেন, এসব নিয়ন্ত্রণে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার নেতারা বলেন, হাজার হাজার আন্দোলনকারী শ্রমিক-ছাত্র অথবা অন্য কোনো পেশার মানুষদের সেনা-পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা করছে, জলকামান-টিয়ার গ্যাসের শেল-সাউন্ড গ্রেনেড দিয়ে ছত্রভঙ্গ করছে। অথচ মব সন্ত্রাসীরা একের পর এক বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড করেই যাচ্ছে।