আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সংস্কার কমিশনের বৈঠকে বিএনপি সংস্কারের পরিবর্তে নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল এবং ক্ষমতায় এসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাদ দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে ‘জুলাইয়ের জন–আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও গণভোটের রায় উপেক্ষা: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ এ সভার আয়োজন করে।
জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না উল্লেখ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা—জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গড়িমসি করছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বিএনপির উদ্দেশে বলেন, বিএনপি এখন তাদের ঘোষিত ৩১ দফা থেকে সরে গেছে এবং জনমত উপেক্ষা করছে, যা সরকারকে দুর্বল করে। এ সময় তিনি দ্রুততম সময়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জনমতের গুরুত্ব অপরিহার্য। কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের উপদেষ্টা নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নতুন ব্যাংক রেজোল্যুশনের মাধ্যমে লুটেরাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করছে। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা স্থায়ী নয় এবং সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকা জরুরি। বিরোধী দলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের সভাপতি মুহাম্মদ প্রিন্স বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। বিএনপি রাষ্ট্রে পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছে। মেধা ও যোগ্যতার বদলে পারিবারিক কোটায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন।