
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান, অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিটির অন্তত দুজন সদস্য ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। তখন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়, ভারতের সঙ্গে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই। সরকার তাঁকে শর্তহীনভাবে ফেরত আনতে চায়।
স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে মন্ত্রণালয় মৌখিকভাবে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে জানিয়েছে। সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে কমিটি আগামী অক্টোবরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব থাকবে; তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৈঠকে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।
কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বৈঠকে অংশ নেন।