জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান (বাঁয়ে)। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের সভাকক্ষে
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান (বাঁয়ে)। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের সভাকক্ষে

সরকারের অবস্থান

বিচার বিভাগ, গুম, দুদকসহ বাদ পড়া বিষয়ে নতুন বিল আনা হবে

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করা হলেও এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদে নতুন বিল আনা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে সংসদে অনুমোদন বা অননুমোদন করা হয়নি, সেগুলো আরও যাচাই–বাছাই করে নতুন বিল আনার কথা বলা হয়েছে। তবে কোন বিল কবে আনা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

রোববার সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নিয়মানুযায়ী, ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে এগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল। নির্ধারিত সময়ে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে। আর ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১১০টি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে সংসদ। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সংশোধিত আকারে অনুমোদন করা হয়।

অধ্যাদেশগুলো যাচাই–বাছাই করতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল সংসদ। তবে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটির সব সুপারিশ হুবহু অনুসরণ করা হয়নি। যেমন কমিটির সুপারিশ ছিল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’ হুবহু অনুমোদনের। তবে গত শুক্রবার এ–সংক্রান্ত বিলে সংশোধনী আনা হলে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক হয়। এটি এবং গুম অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে না আনায় সরকারি দলের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ এনে সেদিন ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।

সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় রীতি অনুসারে বিরোধী দল ওয়াকআউট করতে পারে। কিন্তু যেসব ইস্যুতে তারা ওয়াকআউট করেছে, সেখানে কিছু তথ্য সঠিক ছিল না। বলা যায়, তারা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ওপর দোষ চাপিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশটি হুবহু পাস করার সুপারিশ ছিল। বিলটি সেভাবেই আনা হয়েছিল। কোনো বেসরকারি সদস্য যদি বিলে সংশোধনী আনেন, সেটি সংসদ বা সরকারি দলের কাছে রিজনেবল মনে হলে সংশোধনীটা ভোটাভুটির মাধ্যমে গৃহীত হয়।’ তারপরও বিরোধী দলকে সেদিন কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। সংসদে আইনমন্ত্রী বলেছেন যে পরে এটা আরও সংশোধিত আকারে বিল আনা যাবে।

প্রসঙ্গত, যেকোনো সংসদ সদস্য বিলে সংশোধনী প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু সংশোধনী গ্রহণ করা হবে কি না, তা নির্ভর করে সরকারি দলের ওপর। প্রথমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সংশোধনী গ্রহণ করতে চান কি না, তা জানান। পরে সংশোধনী গ্রহণ করা হবে কি না, সেটা ভোটে দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা চাইলেই সেটা গৃহীত হয়। সংশোধনী গ্রহণের বিষয়ে আগে থেকেই হুইপিং থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো কোনো অধ্যাদেশের বিষয়েও বিরোধী দলের বক্তব্য ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ—এগুলো অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও সমৃদ্ধ করে পরবর্তী অধিবেশনে নিয়ে আসতে চায়। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগুলো আরও সমৃদ্ধ হলে সেটা জাতির জন্য ভালো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে ১৬ অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। তাই সেগুলো এখনো উপস্থাপন করা হয়নি।

কিন্তু কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে সরকার এসব অধ্যাদেশ বাদ দিয়েছে—এমন অভিযোগ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনগুলোর প্রস্তাবনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও অনেকে তা উপেক্ষা করছেন। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গ

চারটি অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছিল বিশেষ কমিটি। সেগুলো হলো জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। এগুলো রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল হয়েছে।
অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সুপারিশ ছিল এখনই বিল না এনে অধিকতর যাচাই–বাছাই করে পরে নতুন বিল আনার। তবে সংসদ এই অধ্যাদেশগুলো রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনঃপ্রচলনে বিল পাস করেছে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলে বলা হয়েছে, এগুলো নিয়ে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই–বাছাই করা প্রয়োজন।

২০০৭-০৮ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বিচার বিভাগ নিয়ে এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক অধ্যাদেশ পরবর্তী সংসদ অনুমোদন করেনি। বর্তমান সংসদও একই ধরনের অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে। তাহলে পার্থক্যের জায়গাটা কোথায়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ–সংবলিত বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘পার্থক্যের জায়গাটা হলো আগের সরকার বিল আকারে এনে এই কথা বলেনি যে অধিকতর যাচাই–বাছাই করা প্রয়োজন। আমরা বিল আকারে এনে অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজনের) সঙ্গে আলোচনা করে এটা আবার আনব, এই কমিটমেন্ট দিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, সংসদে আনা বিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত একটি বিবৃতি থাকে। তবে এটি আইনের অংশ হয় না।

বিচার বিভাগ–সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংবিধানের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিচারকার্য পরিচালনায় বিচারকেরা স্বাধীন। আর কোন কাজে স্বাধীন বলেছে নাকি? আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই। কিন্তু এখন যেসব বিষয়ে আপনারা প্রশ্ন করছেন বা অনেকে বলছে, তাতে করে বিচার বিভাগ যদি সুপার স্বাধীন হয় বা সার্বভৌম হয় তাহলে কি রাষ্ট্রের কল্যাণ হবে?’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের অঙ্গগুলোর মধ্যে অবশ্যই একটা ‘হারমনিয়াস কো-অপারেশন’ থাকতে হবে। যেন কেউ কারও সীমা অতিক্রম না করে। সে জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ সম্পর্কে ‘ভেরি ব্যালান্সড’ আইন আনতে হবে।

গণভোট ‘ফ্যাক্টাম ভ্যালেট’

সংসদে অনুমোদন বা অননুমোদন না করায় গণভোট অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দল আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা তো ‘ফ্যাক্টাম ভ্যালেট’ বা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটার বৈধতা আছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই আইনে আগামী দিনে আর কোনো গণভোট হবে না। যদি ভবিষ্যতে গণভোট করতে হয়, তাহলে সংবিধান অনুসারে অথবা আলাদা আইনে করতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যখন গত অন্তর্বর্তী সরকারের দু-একটা বাদে সব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হবে, তখন সেটা বৈধ হয়ে যাবে।

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটাও বলেছেন, গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে। আদালত কী বলেন, সেটা দেখার বিষয়।

গুম অধ্যাদেশ প্রসঙ্গ

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে কার্যকারিতা হারিয়েছে। এটা পাসের জন্য না তোলার কারণ ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী।

নিজেও গুমের শিকার—এ কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশটি যেভাবে আছে, সেভাবে পাস হলে গুমের শিকার ব্যক্তিরাই অবিচারের শিকার হবেন। সরকার চায়, গুম কমিশন এমনভাবে করতে, যাতে কমিশনের কার্যকারিতা থাকবে, গুমের শিকার ব্যক্তিরাও ন্যায়বিচার পাবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেউ কেউ নিজেদের ‘প্রোভাইড’ (জায়গা করে নেওয়া) করার জন্য তাড়াহুড়া করে মানবাধিকার কমিশন, গুম অধ্যাদেশ করেছে—এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা দোষ দিতে চায় না। দেড় বছর মেয়াদের সরকার এগুলো করতে চেয়েছে, সে জন্য কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার আছে। অনেক সময় আছে। আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন—এগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আইন করতে চায় সরকার। সে জন্য একটু সময় দরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যরা এই জিনিসগুলোকে রাজনীতিকীকরণ করেছেন। আমরা যেটা করতে চাই না।’

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গুমের সংজ্ঞা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আইনে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। মানবাধিকার কমিশন আইনের কিছু ধারা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে তদন্ত, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে পরামর্শ সভার আয়োজন করা হতে পারে।

পুলিশ কমিশন

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ ছিল বিশেষ কমিটির; কিন্তু সেটা করা হয়নি। এটা কার্যকারিতা হারিয়েছে। এই অধ্যাদেশ কেন সুপারিশ অনুযায়ী বিল আকারে আনা হয়নি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি পদও সৃজন হয়নি, একটি পয়সাও খরচ হয়নি। এটা হেফাজতের প্রয়োজন নেই। এটা এই অধিবেশনে আনতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। পরে সংশোধিত আকারে এটা সংসদে আনা হবে।

যে ১৬ অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে

এর আগে গত শনিবার খবর বের হয়েছিল, ১৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। রোববার আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের অধ্যাদেশ ১৬টি।

সেগুলো হলো গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ।