জ্বালানিসংকট নিরসন ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ২২ এপ্রিল, ২০২৬
জ্বালানিসংকট নিরসন ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ২২ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানিসংকট নিরসনসহ চার দফা দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

জ্বালানিসংকট নিরসন ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলা ভবন, মধুর ক্যানটিন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার হয়ে আবার টিএসসিতে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, রুখে দাঁড়াও ছাত্র সমাজ’; ‘পীর শামিম মরলো কেন, বিচার চাই জবাব চাই’; ‘অবিলম্বে ইলিয়াস ভাইয়ের মুক্তি দাও, দিতে হবে’; ‘সন্ত্রাস করে তিনটি দল, লীগ-শিবির-ছাত্রদল’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার অস্ত্রের ঝনঝনানি ও দখলদারত্ব শুরু হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারও দেখা গেছে।’ তিনি বলেন, ‘এই সন্ত্রাসের মধ্যে কোনো ছাত্ররাজনীতি নেই; আছে কেবল ক্ষমতার ভাগাভাগি ও হালুয়া-রুটির লড়াই।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাবির আহমেদ আরও বলেন, ‘সংসদে এখন কোনো বিরোধী দল নেই। বিএনপি–জামায়াতসহ ২০০১ সালের সেই চারদলীয় জোটই এখন সব পরিচালনা করছে।’

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি তানজিদ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা একেকজন সংবিধানবিশেষজ্ঞ হয়ে গেছেন; কিন্তু দেশের মানুষ যদি তিন বেলা খেতে না পারে, তবে এই সংবিধান দিয়ে তারা কী করবে?’ তিনি বর্তমান সময়কে ‘মব সন্ত্রাসের বাংলাদেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তির সমালোচনা করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা বলেন, ‘মব থেরাপি’র নামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও জমি দখল চলছে। এসব দৃশ্য স্বৈরাচারী হাসিনা আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়।

ছাত্র জোটের চার দফা দাবি হলো—চলমান জ্বালানিসংকট ও কৃষকদের সেচ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা; পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরসহ সব ‘মব ভায়োলেন্স’ ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার করতে হবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে; তাসনিম আফরোজ ইমি ও বিশ্বনাথ মহন্তসহ গ্রেপ্তার সবার মুক্তি দিতে হবে এবং পাহাড়ে সেনা অভিযান ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।