
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
জাসদ বলছে, এখনো ২৬ জন আটক আছেন। তাঁদের সবাই দলের নেতা-কর্মী। তাঁদেরও ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
গতকাল শনিবার বেলা তিনটার দিকে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক নেতাসহ নেতা-কর্মীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া গতকাল রাত ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, অভিযানে জাসদ কার্যালয় থেকে ২৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁরা জাসদের নেতা-কর্মী, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এর বাইরে যাঁরা আছেন, যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাসদ কার্যালয় থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও আটক করা হয়েছিল। অবশ্য আজ ভোরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জাসদ সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া আটকদের এখনো আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জাসদ বলেছে, পুলিশের অনুমতি নিয়েই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অভিযান চালিয়ে নেতাদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
এর আগে বিকেলে অভিযানের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হয়েছেন, এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তবে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জড়ো হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে জাসদ। ঘটনার বিষয়ে জাসদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাসদ কার্যালয়ে আয়োজিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা ছিল পূর্বনির্ধারিত। জাসদের পক্ষ থেকে ডিএমপির কমিশনার, মতিঝিল জোনের ডিসি, পল্টন থানার ওসিকে অবগত করেই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়। জাসদ নিষিদ্ধ দল নয়। জাসদের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই। জাসদের এই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভায় অংশগ্রহণকারী সবাই জাসদের নেতা-সদস্য।
আটকের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সভাটি জাসদের নিজস্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম। এতে জাসদের প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন ছিলেন নারী। যুবদলের ৫০০ নেতা-কর্মী পুলিশের উপস্থিতিতেই জাসদ কার্যালয়ে অনুপ্রবেশ করে মব সৃষ্টি করে। নেতা-কর্মীদের শারীরিকভাবে আঘাত করে। পরে পুলিশ পুরো কার্যালয় ঘেরাও করে উপস্থিত নেতাদের আটক করে পল্টন, শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। জাসদের সভার আড়ালে আওয়ামী লীগের সভা বলে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন আজ রোববার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, এখনো ২৬ জন নেতা-কর্মী আটক আছেন। তাঁদেরও ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।