ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ সাত নেতা এবার প্রার্থী

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, এমন সাতজনকে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিএনপি। তাঁদের মধ্যে ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন পাঁচজন। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন দুজন।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিদের মধ্যে যাঁরা এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তাঁরা হলেন ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি), আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু) ও রাজীব আহসান। আর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে এবার প্রার্থী হয়েছেন আমিরুল ইসলাম খান ও হাবিবুর রশিদ।

১৯৯২ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন ফজলুল হক মিলন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি। গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচন করছেন। এই আসনে জামায়াত–সমর্থিত ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য খায়রুল হাসান।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিদের মধ্যে যাঁরা এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তাঁরা হলেন ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি), আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু) ও রাজীব আহসান। আর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে এবার প্রার্থী হয়েছেন আমিরুল ইসলাম খান ও হাবিবুর রশিদ।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ১৯৯৭ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কও ছিলেন। বিএনপির মনোনয়নে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচন করছেন তিনি। এর আগেও তিনি দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী।

এই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী রেজাউল করিম। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল খুলনা-৪ আসন (রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ২০০৪ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। হেলাল বর্তমানে বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক।

সুলতান সালাউদ্দিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন ২০১০ সালে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। এবার টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ছাত্রদলের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করার পর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিএনপির প্রচার সম্পাদক।

২০১৪ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন রাজীব আহসান। তিনি এবার বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজীরহাট) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর এখন তিনি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল। এই সংগঠনের সাবেক নেতাদের নির্বাচনে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রার্থী করার ক্ষেত্রে দল সবকিছু বিবেচনায় নেয়।

সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদকও প্রার্থী

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে এবার দুজন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাঁরা হলেন আমিরুল ইসলাম খান ও হাবিবুর রশিদ। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-এনায়েতপুর-চৌহালী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান। তিনি ২০১০ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতিও ছিলেন।

আর হাবিবুর রশিদ ২০১২ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এবার ঢাকা-৯ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি।

ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে প্রার্থী যাঁরা

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন। ভিপি থাকা অবস্থায় ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তিনি ঢাকা-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

নরসিংদী-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন ১৯৯০ সালে আমানউল্লাহ আমানের সঙ্গে ডাকসুর জিএস ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস ছিলেন। এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতাদের (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে) মধ্যে এবার যাঁরা মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা ৩৪ জনের মতো বলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা প্রথম আলোকে জানান। তাঁরা বলেন, ছাত্রদলের জেলা কমিটিতে ছিলেন এমন কয়েকজনও এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।

শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি এবার প্রার্থী করেছে মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদকে (অপু)। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসম্পাদক ছিলেন।

খুলনা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম (বকুল) ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন।

সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। গুমের শিকার হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তিনি।

ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া শহীদুল ইসলাম কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ছিলেন। তিনি এখন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।

টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এস এম ওবায়দুল হক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে মো. কামরুজ্জামানকে। তিনি ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে আনিসুর রহমান তালুকদারকে।তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এর বাইরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আরও কয়েকজন নেতা এবার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল। এই সংগঠনের সাবেক নেতাদের নির্বাচনে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রার্থী করার ক্ষেত্রে দল সবকিছু বিবেচনায় নেয়।