একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার আর্থিক খাতকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এ কথা বলেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একজন ব্যক্তিকে গভর্নর নিয়োগ করে আর্থিক খাতকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হলো। দেশের আর্থিক খাত যখন সংস্কারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন এমন অবিবেচক সিদ্ধান্ত একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।’
ইসলামী আন্দোলন বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়। দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও গভর্নর নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়, বরং দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই গভর্নর নিয়োগ দেওয়া উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আধুনিক বিশ্বের বহুমাত্রিক ও জটিল অর্থব্যবস্থায় এই ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ব্যাংক ও অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট একাডেমিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া উচিত। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকে আমলা বা বাস্তব অভিজ্ঞতাহীন একাডেমিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে দেশের আর্থিক খাতের সর্বনাশ করা হয়েছে।’
দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তিনি যখন দায়িত্ব নেন, তখন চরম অর্থনৈতিক চাপের সময়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া, টাকার বিনিময় হার নিয়ে অস্থিরতা এবং আমদানির চাপ সে সময় ছিল চরমে।’
ইসলামী আন্দোলন বলেছে, রিজার্ভ পুনরুদ্ধার, বিনিময় হারের অসামঞ্জস্য দূর এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ব্যাংকিং খাত সংস্কার শুরু করেন বিদায়ী গভর্নর। এর মধ্যে তিনি দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করেন, সুশাসন জোরদার করেন এবং খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠনের উদ্যোগ নেন।
গতকাল বুধবার ‘মব’ সৃষ্টি করে আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংক ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার তাঁর নিয়োগ বাতিল করে এমন একজনকে নিয়োগ দেয়, যার অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনাও নাই, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাও নাই।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নতুন গভর্নর একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। গত ডিসেম্বরেই তাঁর মালিকানাধীন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান “হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের” ৮৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।’