
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থের বদলে দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব স্থাপনকারী অধ্যাদেশগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি।
আজ রোববার ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বড় একটি অংশ আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। তখন বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থের কারণ দেখিয়ে জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। যদিও বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থের কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়নি। এর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরাসরি সরকারের হাতে দেওয়া হয়।
ইসলামী আন্দোলন অভিযোগ করেছে, বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জারি করা অধ্যাদেশ স্বাভাবিক সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবহার করার জন্য কোনো কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপের লক্ষ্যে আনা অধ্যাদেশগুলো লোপ করে দেওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে জারি করা এসব অধ্যাদেশ এখন স্বাভাবিক সময়েও স্থানীয় সরকারকে নির্বাহী বিভাগের খেয়ালখুশির ওপর ছেড়ে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা তার স্বকীয়তা হারাবে এবং জনরায়কে ইচ্ছেমতো উপেক্ষা করার সুযোগ তৈরি হবে।
গণরায়কে উপেক্ষা করার এ প্রবণতা থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। দলটি আরও বলেছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বর্তমান সরকারকে অনুমোদন করতে হবে।