
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আগামীকাল শনিবার থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করবে ইনকিলাব মঞ্চ। এই সময়ে সরকার, রাজনৈতিক দল ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের কাছে যাবেন সংগঠনটির সদস্যরা। বিচার নিশ্চিতে সহযোগিতা চাইবেন তাঁরা। একই সঙ্গে ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদির খুনি ও খুনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। তা না হলে ৭ জানুয়ারির পর থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা দেন। এ সময় ওসমান হাদির বড় ভাই শরিফ ওমর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ৭ জানুয়ারির পরে তাঁরা চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবেন। এরপর এই সরকার থাকল না চলে গেল, তাঁদের দেখার বিষয় নয়। সরকার যদি জনগণকে দেখে না রাখে, তাহলে জনগণেরও সরকারকে দেখে রাখার দায় নেই। ওসমান হাদি খুনের তদন্ত ও বিচারের অগ্রগতি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার এবং বিচারকাজ সম্পন্ন করার কথা বলতে হবে। না হলে তাঁরা ৭ তারিখ থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামবেন। প্রয়োজনে হরতাল ও অবরোধের ডাক দেবেন।
ইনকিলাব মঞ্চের এই সদস্যসচিব জানান, ৩–৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁরা ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করবেন। এ কর্মসূচিতে ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিসংবলিত লিফলেট নিয়ে শাহবাগসহ ৭ বিভাগের সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাবেন। তাঁরা সরকার, সব রাজনৈতিক দল ও ‘বাংলাদেশপন্থী’ সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কাছে যাবেন। তাঁদের কাছে সহযোগিতা চাইবেন। তাঁরা সহযোগিতা করলে ভালো, না করলে রাজপথে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামবেন। জনগণকে তাঁদের এই কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার হয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে দিয়ে শাহবাগে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে বক্তব্য দেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তাঁর বক্তব্য শেষে শাহবাগে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। এতে শাহবাগ মোড়ের এক পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁরা শাহবাগ ছেড়ে যান।