আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার, জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার, জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে

জিয়াউর রহমানের জীবন নিয়ে উঁচু মানের গবেষণা প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল

শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জীবন নিয়ে গবেষণায় অপ্রতুলতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণা অপ্রতুল। এটা ইতিহাসের কিছুটা কৃপণতা ও অবিচার। তাই জিয়াউর রহমানের কাজ, চিন্তা-ভাবনাসহ তাঁর পুরো জীবন নিয়ে ভালো ও উঁচু মানের গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথাগুলো বলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা আয়োজন করে জাতীয় প্রেসক্লাব।

এ ছাড়া প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান সম্পর্কে যত গবেষণা হবে, ততই নতুন প্রজন্ম তাঁর অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে। গবেষণার মাধ্যমে তাঁর অবদান সামনে আনা দরকার।

আওয়ামী লীগের আমলে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নানা সমালোচনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে বইয়ের পাতায় জিয়াউর রহমানকে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী হিসেবে পরিচিত করানোর চেষ্টা হয়েছে। তবে যত সমালোচনা হোক না কেন, এতে তাঁর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমবে না। ইতিহাস তাঁকে যথাযথ মর্যাদায় মূল্যায়ন করবে।

জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রকে সবচেয়ে উত্তম শাসনব্যবস্থা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন জিয়াউর রহমানের সরকারে উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পালনকারী মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ও মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছিন্নভিন্ন অবস্থায় ছিল। জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলকে এক জায়গায় আনার চেষ্টা করেছিলেন। আওয়ামী লীগকেও একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ আসেনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একত্র করে প্রথমে একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠন, পরবর্তী সময়ে জাগদল এবং শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। তিনি বিএনপিকে সত্যিকার অর্থে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন। গ্রামগঞ্জে গেছেন, কৃষকের ঘরে গেছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। এ কারণে জিয়াউর রহমানের জানাজায় লাখ লাখ মানুষ এসেছে।

খেলাধুলা, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, সংগীত—সব ক্ষেত্রেই জিয়াউর রহমান পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব। গণমাধ্যমের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সম্পর্ক অত্যন্ত আন্তরিক ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে জাপানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। দেশে রেমিট্যান্স, গার্মেন্ট শিল্প তাঁর আমলে শুরু হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশকে সঠিক ট্র্যাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনিও একইভাবে কাজ করছেন। দিন-রাত কাজ করার চেষ্টা করছেন।’

দেশের গণমাধ্যম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিডিয়ার সমস্যা তো এখন বিশাল। আমি অত কিছু বলতে চাই না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মিডিয়া তো মিডিয়া নাই এখন। এটা একটা বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে এখন...। চাটুকারিতা কাকে বলে, এখন বোধ হয় মিডিয়াতেই দেখা যায়।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, একটি চলমান রাজনৈতিক আন্দোলন যখন স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন সেই আন্দোলনকে জিয়াউর রহমান যুদ্ধে রূপান্তর করেছিলেন। তার আগে যুদ্ধ শব্দটি তৎকালীন সময়ের কোনো নেতা কল্পনাও করতে পারেননি। যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও জিয়াউর রহমানকে তাঁর প্রাপ্য দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনো ক্ষোভ, আক্রোশ বা বিক্ষোভ দেখা যায়নি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ২৫ মার্চ রাতে জিয়াউর রহমান যুদ্ধ ঘোষণা না করলে জাতি দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়ত। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহেও তাঁকে যদি সিপাহি-জনতা বের করে না আনত, তাহলে দেশে প্রশান্তির ছোঁয়া লাগত না।

জিয়াউর রহমান স্বাধীন গণমাধ্যমের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম চতুর্থ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে যে ধরনের অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ জিয়াউর রহমান না হলে গণমাধ্যমকে মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কি না, সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।