‘জনতার পার্লামেন্ট’ নামে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার। পূর্ব রাজাবাজার, ঢাকা। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
‘জনতার পার্লামেন্ট’ নামে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার। পূর্ব রাজাবাজার, ঢাকা। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

‘জনতার পার্লামেন্ট’–এ ভোটারদের সমস্যা শুনলেন তাসলিমা আখতার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনের ভোটারদের সমস্যা সরাসরি শুনতে ‘জনতার পার্লামেন্ট’ নামে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি জোটের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। নির্বাচনের আগপর্যন্ত এই আসনের প্রতিটি এলাকায় পর্যায়ক্রমে এমন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার বিকেল চারটায় পূর্ব রাজাবাজারের নাজনীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মাথাল প্রতীকের প্রার্থী তাসলিমা আখতার ‘জনতার পার্লামেন্ট’ উদ্বোধন করেন। এরপর সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে এসে নিজ নিজ এলাকার সংকট ও করণীয় নিয়ে কথা বলেন।

‘জনতার পার্লামেন্টে’ অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় সমস্যার শেষ নেই। এলাকার রাস্তায় হাঁটার জন্য কোনো ফুটপাত না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। খেলার মাঠের অভাবে শিশু ও তরুণদের মধ্যে মোবাইল ফোনের আসক্তি বাড়ছে, অনেকে মাদকাসক্তও হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া তীব্র যানজট, মশার উপদ্রব এবং শ্রমজীবী মানুষের নানা ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন তাঁরা।

মানুষের অভিযোগ শোনার পর প্রার্থী তাসলিমা আখতার বলেন, ঢাকা-১২ আসনের এলাকাগুলোতে খেলার মাঠ নেই, রাস্তাঘাট অপরিচ্ছন্ন, যানজট, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ নানা সমস্যা আছে। এগুলো মোকাবিলায় সরকারের যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ করার কথা, তারা যথাযথভাবে কাজ করছে না।

এসব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-১২ আসনের মানুষ যদি আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে যথাযথভাবে কাজ করে, তা আমি তদারকি করব। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলব। একই সঙ্গে এলাকায় সমস্যা নিয়ে কাজ করতে নাগরিকদের দিয়ে কমিটিও গঠন করা হবে।’

এ সময় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমালোচনা করে তাসলিমা আখতার বলেন, ‘এই জোটের সবচেয়ে বড় দল (জামায়াত) কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। আমাদের সমাজের প্রায় অর্ধেক নারী। সেই নারীদের যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখতে চায় না, তাদের বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত করবে না বলেই আমরা মনে করি।’

এই আয়োজনে তাসলিমা আখতারের সঙ্গে ছিলেন ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অন্য নেতা-কর্মীরা। পরে সৈকত আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও ‘জনতার পার্লামেন্ট’ করা হবে। সেখানে তাসলিমা আখতার সরাসরি জনগণের সমস্যা ও সংকটের কথা শুনবেন।