ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শাহবাগ, ঢাকা; ১৫ জুন ২০২৬
ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শাহবাগ, ঢাকা; ১৫ জুন ২০২৬

১১–দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ

ভারতকে ‘বড়াইবাড়ি যুদ্ধের’ কথা স্মরণে রাখতে বললেন জামায়াত সেক্রেটারি

বাংলাদেশে পুশ ইন (ঠেলে পাঠানো), সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এক সমাবেশ থেকে ভারতকে ‘বড়াইবাড়ি যুদ্ধের’ কথা স্মরণে রাখতে বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রৌমারীর সেই বড়াইবাড়ি সীমান্তে বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) সঙ্গে বিএসএফের নির্লজ্জ পরাজয়ের ইতিহাস আপনাদের স্মরণ করতে হবে।’

ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দেশের ৩২টি জেলার ৪ হাজার কিলোমিটার এলাকায় ভারতের সীমান্ত রয়েছে। বরাবরই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, পুশ ইন, হত্যা, পানিসহ নানা বিষয়ে ভারত আগ্রাসী আচরণ করেছে। এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নতুন করে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভারতের অখণ্ডতার প্রতি বাংলাদেশ শ্রদ্ধাশীল, তবে বাংলাদেশের অখণ্ডতার প্রতি তারা সম্মান দেখাতে পারেনি। ভারত পতিত, পলাতক খুনি হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে। ওসমান হাদির খুনি ফয়সালকে হাতে পেয়েও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করছে না।

প্রায় প্রতিদিনই ভারত বাংলাদেশে পুশ ইন করছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গোটা ভারতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষকে নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের অজুহাতে পুশ ইনের আওতায় আনা হয়েছে। সীমান্তে তাদের আটক রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে।

তবে সীমান্তে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্য ও সাধারণ জনগণ সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জনগণ পুশ ইনের প্রতিরোধ করা শুরু করেছে।

সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আপনারা আমাদের লাল-সবুজ পতাকাকে পাহারা দিবেন। বুকে অদম্য সাহস নিয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত করে আপনারা দাঁড়াবেন।’

এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারেননি, অপমানিত হয়ে ফেরত এসেছেন। এ বিষয়ে সরকার জাতির কাছে কোনো ব্যাখ্যাও দিতে পারেনি।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনিদের বিচার দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ভারতে থাকা হাদির হত্যাকারীদের বাংলাদেশের কাছে সোপর্দ করার দাবিও জানান।

ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল। ঢাকা; ১৫ জুন ২০২৬

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশকে মিলিয়ে অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। এটি দিবাস্বপ্নই থেকে যাবে, বাস্তবে পরিণত হবে না।

এ সময় সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন, পুশ ইন বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যদি তাঁরা সসম্মানে পদত্যাগ না করেন, টেনেহিঁচড়ে তাঁদের পদত্যাগ করানো হবে।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সরকার যাদের ইশারা ও সহযোগিতায় ক্ষমতায় এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন কথা বলতে ভয় পাচ্ছে—এটা প্রমাণ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের তাঁবেদারি মেনে নেবে না।

সভাপতির বক্তব্যে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গতকাল রোববার সীমান্তে পুশ ইন নিয়ে সংসদে আলোচনার এজেন্ডা থাকলেও সেটি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না, কোন কালো হাতের ইশারায় এই আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে।’

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের হুঁশ হচ্ছে না। ভারত তাদের বন্ধু নয়; তাদের দুধ-কলা দিয়ে পুষছে। জামায়াতসহ ১১ দলকে ক্ষমতায় আসতে না দিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, ভারতের স্বার্থ রক্ষার জন্য। এর পরিণতি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে৷

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নিয়ামুল বশির, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন প্রমুখ।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন এবং মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক।

সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট মোড় হয়ে পুরানা পল্টন গিয়ে শেষ হয়।