রাজধানীতে জাতীয় শ্রমিক শক্তির সংবাদ সম্মেলনে হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। সঙ্গে ছিলেন সংগঠনটির অন্যান্য নেতা। ৩ নভেম্বর, ২০২৬
রাজধানীতে জাতীয় শ্রমিক শক্তির সংবাদ সম্মেলনে হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। সঙ্গে ছিলেন সংগঠনটির অন্যান্য নেতা। ৩ নভেম্বর, ২০২৬

সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমিকদের আন্দোলন এই পর্যায়ে গড়িয়েছে: জাতীয় শ্রমিক শক্তি

চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে জাতীয় শ্রমিক শক্তি। একই সঙ্গে আন্দোলনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করতে হবে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতারা এসব দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, সরকার ও মালিকপক্ষ মজুরি বোর্ড গঠনের নামে দলীয়করণ করে নিজেদের লোক বসিয়েছে, শ্রমিকেরা এটা মানছেন না। সরকারের বিভিন্ন সময়ের অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের কারণেই আন্দোলন এই পর্যায়ে গড়িয়েছে। শিল্প রক্ষার স্বার্থেই বর্তমান বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে।

জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, ‘আগে থেকেই আমরা মজুরি বোর্ড গঠন করে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছি। অথচ এই কাজে শ্রমমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা ব্যর্থ শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।’

সংগঠনটির সদস্যসচিব রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘প্রশাসনের ভাইদের কাছে অনুরোধ, আপনারা শ্রমিকদের আন্দোলনে হামলা করবেন না। আমরা আওয়ামী আমলের পুলিশ দেখতে চাই না।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা–কর্মী ও পুলিশের যৌথ মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের দমন–পীড়ন অব্যাহত থাকলে সাধারণ শ্রমিকদের এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর ও ভিন্ন রূপ নিতে পারে বলে তাঁরা সতর্ক করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে দ্রুত সহনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য তাঁদের ন্যায্য মজুরি মেনে নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।