আজ শনিবার সকালে ঢাকার আসাদ গেটে একটি তেলের পাম্প পরিদর্শনে যান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা
আজ শনিবার সকালে ঢাকার আসাদ গেটে একটি তেলের পাম্প পরিদর্শনে যান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা

জনদুর্ভোগ আছে কি না, বুঝতে পেট্রলপাম্প পরিদর্শনে গেলেন জামায়াত আমির

যাঁরা মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁদের আয় আগের চেয়ে কমেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যারা বাইক চালিয়ে নিজের সংসারটা কোনোরকম নির্বাহ করে, আমি জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আগে কত? বলে যে আগে দেড়-দুই হাজার টাকা রুজি করতাম। এখন কত? কয় না, এখন তো ৫০০-৬০০।’

আজ শনিবার সকালে ঢাকার আসাদ গেটে একটি তেলের পাম্প পরিদর্শনে যান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

দেশে জনদুর্ভোগ আছে কি না, সেটি বোঝার জন্য পেট্রলপাম্প পরিদর্শনে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমির। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তেলের বাজারে অস্থিরতার কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দ্রব্যের মূল্য বেড়ে গেছে দুটি কারণে। একটা হলো তেলের বাজারে অস্থিরতা, সংকট। এ জন্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। আরেকটা হলো, চাঁদাবাজির রেটও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দুইটার ভার এসে সাধারণ জনগণের ঘাড়ে পড়তেছে।’

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব নিয়ে সরকার সত্যিটা বলছে না অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সংকটটা আমরা তৈরি করি নাই, আমাদের সরকারও তৈরি করে নাই। বিশ্বে একটা যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার একটা কুফল হিসেবে এটা আমাদের গায়ে পড়েছে। কিন্তু আমাদের সত্য কথা বলতে হবে। আমাদের বাস্তবে যা সমস্যা আছে, এটা তুলে ধরতে হবে। সবাই বুঝবে তা। তখন কেউ অসহিষ্ণু হবে না, ধৈর্য ধরবে। কিন্তু আপনি যদি বলেন যে সবই আছে, তাইলে তো লোকেরা বলবে, তাইলে আমারে সবই দাও।’

জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সংসদে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন তেল বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে পাম্পে এসে কথা বলে জানা গেছে, এটি সত্য নয়।

জামায়াত আমির জানান, পেট্রলপাম্পে ভোর পাঁচটায় লাইনে দাঁড়ানো গাড়ি যেমন পেয়েছে, তেমনিভাবে আগের দিন রাত ৯টায় আসা গাড়িও পেয়েছে। তিনি বলেন, প্রাইভেট কারের চালকেরা তাঁকে বলেছেন, তাঁরা সারা দিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার তেল পান। আর মোটরসাইকেলচালকেরা বলেছেন, তাঁরা সারা দিনে সর্বোচ্চ ৩০০-৫০০ টাকার তেল পান। বাধ্য হয়ে মানুষ ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এত কম তেল নিচ্ছেন।

এখানে লুকোচুরির কী আছে

তেলের সংকট নেই—সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘বলা হচ্ছে যে একই গাড়ি বারবার তেল নিয়ে বিক্রি করছে। এ জন্য তেলের ডিমান্ড বেড়ে গেছে। আগের চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে, এ কথা একেবারেই অসত্য।’

এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে লুকোচুরির কী আছে! আমরা খোলামেলা সত্য কথাটা বলি। সবাই মিলে তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করব। তা না করে ধামাচাপা দিলে সেচে কি পাওয়ার টিলার চালানোর জন্য আমার কৃষক ভাই তেল পাবে?’

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা একদিকে জনগণের ন্যায্য চাহিদা পূরণ করতে পারছি না, অন্যদিকে জনগণকে আমরা মিথ্যুক বানিয়ে ফেলতেছি। এটা আসলে জাতীয় লজ্জা।’

এ সময় তেলের জন্য লাইনে থাকা অনেক মোটরসাইকেলচালক শফিকুর রহমানকে জ্বালানি তেলের সংকটের বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে এবং প্রয়োজনে মাঠের আন্দোলনে নামতে বলেন। জামায়াত আমির তাদের বলেন, ‘রাস্তায়ই আছি। আমাদের সঙ্গে আপনাদেরও নামতে হবে।’