সংঘবদ্ধভাবে হামলায় নিহত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে
সংঘবদ্ধভাবে হামলায় নিহত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে

কুষ্টিয়ায় ‘পীরকে’ হত্যার ঘটনাস্থল ঘুরে এনপিএ বলল, হামলা পূর্বপরিকল্পিত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে হত্যার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) একটি প্রতিনিধিদল। পরিদর্শন শেষে এনপিএ নেতারা বলছেন, ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবে পরিকল্পিত ও সংগঠিত। এ ধরনের প্রকাশ্য ও পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কার্যক্রম শুরু না হওয়া এবং কাউকে গ্রেপ্তার না করা চরম উদাসীনতার পরিচয় দেয়।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গতকাল শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে পীর শামীম রেজাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আজ রোববার দৌলতপুরের ফিলিপনগর গ্রামে যান এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য অনিক রায় ও মেঘমল্লার বসু।

কুষ্টিয়ায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী তরুণদের উদ্যোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনপিএর নেতারা। ভুক্তভোগী ‘পীর’ শামীম রেজার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন তাঁরা।

এনপিএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এনপিএর প্রতিনিধিদল জানতে পেরেছে, ঘটনার পরে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ভুক্তভোগী পরিবার এখনো ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছে। তারা মামলা করার সাহস পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগজনক।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের আস্তানা। আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে

স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পীরের ওপর আক্রমণের ঘটনার একটি বিবরণ পেয়েছে এনপিএ। সেটি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই বর্ণনায় বলা হয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই হামলার প্রস্তুতি শুরু হয়। পরদিন শনিবার সকালে বৈঠক করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয় এবং দুপুরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। এ হামলায় শুধু সংশ্লিষ্ট গ্রামের লোকজনই নয়, পাশের গ্রামের লোকজনও অংশ নেন, যা ঘটনাটির সুস্পষ্টভাবে পরিকল্পিত ও সংগঠিত চরিত্রকে নির্দেশ করে।

এ ধরনের প্রকাশ্য ও পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কার্যক্রম শুরু না হওয়া এবং কাউকে গ্রেপ্তার না করা চরম উদাসীনতার পরিচায়ক বলে এনপিএর বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি বলছে, এর ফলে অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও জোরদার হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো—একটি এত বড় ও সংগঠিত হামলার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত পুলিশ হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু করেনি। এই ধীরগতি ও নিষ্ক্রিয়তা শুধু বিচারপ্রক্রিয়াকেই বাধাগ্রস্ত করছে না; বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কুষ্টিয়ার ভুক্তভোগী পরিবারটি যাতে ভয়মুক্ত পরিবেশে মামলা করতে পারে, সে জন্য রাষ্ট্রকে অবিলম্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এনপিএ। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছে তারা। এনপিএ বলেছে, ‘এ ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা না গেলে তা দেশে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন করবে এবং উগ্রবাদী সহিংসতাকে উৎসাহিত করবে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সোচ্চার অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’