ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গত ২৯ ডিসেম্বর সবুজবাগ থানা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাসনিম জারা
ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গত ২৯ ডিসেম্বর সবুজবাগ থানা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাসনিম জারা

জনগণের দেওয়া প্রায় ৪৭ লাখ টাকা নির্বাচনে ব্যয় করবেন তাসনিম জারা

সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় করে নির্বাচনের খরচ চালাবেন ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া তাসনিম জারা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়ে আসা তাসনিম জারা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণীতে এ তথ্য উল্লেখ করেছেন।

সেখানে তাসনিম জারা বলেছেন, জনসাধারণ থেকে ‘ক্রাউড ফান্ডিংয়ের’ (গণ–অনুদানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। ওই অর্থের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এনসিপিতে থাকাকালে তাসনিম জারা এ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। এ ছাড়া নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহে তাসনিম জারা তাঁর ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য আয়ের অর্থ হিসেবে ২৩ লাখ টাকার পাশাপাশি ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ডের কথা উল্লেখ করেছেন।

তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট নিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

পেশা হিসেবে চিকিৎসকের পাশাপাশি শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তার কথা উল্লেখ করেছেন তাসনিম জারা। ৩১ বছর বয়সী তাসনিম জারা আয়ের মূল উৎস হিসেবে চাকরির কথা উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় তিনি বলেছেন, দেশের ভেতরে চাকরি করে বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা আয় করেন। এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে দেশের ভেতরে তাঁর বছরে আয় ২৬৪ টাকা। আর দেশের বাইরে এ খাত থেকে তাঁর আয় হয় ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী, তাসনিম জারার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা। তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ১৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ২৭০ পাউন্ড, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১০ হাজার ১৯০ টাকা এবং আড়াই লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমার বিবরণীতে তাসনিম জারা বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা আয় দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকা। আর আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা।

হলফনামায় তাসনিম জারা নির্ভরশীল হিসেবে স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন। খালেদ সাইফুল্লাহ পেশায় একজন উদ্যোক্তা। তাঁর দেশের ভেতরে কোনো আয় নেই। তবে দেশের বাইরে বছরে ৩৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড আয় করেন। আর শেয়ার, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন ৪ হাজার ৮০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।

তাসনিম জারার স্বামীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ ১৫ লাখ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা আছে ১০ লাখ টাকা মূল্যের। তাঁর স্বামীরও কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই।