জামায়াতকে একমাত্র ‘দেশপ্রেমিক’ দল বললেন, আবদুল্লাহ তাহের

একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে আজ সোমবার এক আলোচনা সভা করে জামায়াতে ইসলামী
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীকে একমাত্র ‘দেশপ্রেমিক’ দল বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, একমাত্র দেশপ্রেমিক দল হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কারণ, তারা সৎ। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য অনেক শর্ত দেয়। এক নম্বর শর্ত হওয়া উচিত সততা।’

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আরও বলেন, দেশপ্রেমের প্রথম শর্ত হচ্ছে সততা। মূল উপাদান হচ্ছে মানুষ। কিন্তু যারা দুর্নীতি করে, মানুষকে ঠকায়, তারা দেশপ্রেমিক হতে পারে না।

আজ সোমবার বিকেলে একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে জামায়াতের নায়েবে আমির এসব কথা বলেন।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত জানায়, দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা রাজধানীর একটি মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। তবে সেটি কোথায়, তা বলা হয়নি।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ছিল নিজ ভাষায় কথা বলার অধিকারের আন্দোলন। আজকের পরিস্থিতি সেই দিনের চেয়ে আরও বেশি ভয়াবহ।

এখন শুধু আমাদের কথা বলার অধিকারই নেই, ইজ্জত রক্ষারও অধিকার নেই। ভাত, কাপড়, শিক্ষা—সবকিছুর অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

এই জামায়াত নেতা বলেন, সমাজকে পরিপূর্ণভাবে পরিবর্তন করতে হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের হাতে তুলে দিতে হবে। তা না হলে সত্যিকারভাবে মানুষের কোনো কল্যাণ হবে না। আজকে এই মৌলিক পরিবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এতে যতই সময় লাগুক না কেন।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ করেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ইতিহাসের বিকৃতি অন্যায়, অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সুযোগ পেলেই ইতিহাস বিকৃত করা হয়। ইতিহাসে প্রত্যেকের অবদান সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রতিবছরই একুশে পদক দেওয়া হয়। মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম এই পদক পাওয়ার অধিকার রাখেন।

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য মোকাররম হোসাইন, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সালাম প্রমুখ।

২৫ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ করার অনুমতি চেয়েছে জামায়াত

এদিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল করার অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদন করেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বিকেলে জামায়াতের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আবেদনপত্র নিয়ে ডিএমপি কার্যালয়ে যান।

আবেদনপত্রে বলা হয়, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ও বন্দী ওলামায়ে কেরামসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠাসহ জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা শনিবার বেলা তিনটায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল করবেন। সেটি পল্টন মোড়, বিজয়নগর ও নাইটিঙ্গেল হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে জামায়াত।

আবেদন নিয়ে ডিএমপিতে যাওয়া চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আইনজীবী সাইফুর রহমান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, জালাল উদ্দীন ভূঁইয়া ও এম আর করিম।
এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের পক্ষ থেকে ডিএমপির ই-মেইলে আবেদন করা হয় বলে দলের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।